জুবায়ের সিদ্দিকী/গোলাম সরওয়ার : মহানগরীর বায়েজিদ থানা পুলিশ আরেফিন নগর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী মনিকা বেগম (মনি) কে গ্রেফতার করে। মনি এলাকার একজন বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এর আগেও সে একবার গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে এসে আবার শুরু করে মাদক ব্যবসা।গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী নগরীর ১২০ জন মাদক ব্যবসায়ীর ৫০ জনই নারী। এরা নগরীতে ১৬ থানা এলাকায় দাপটের সঙ্গে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদের অনেকেই মাদকসহ একাধিকবার হাতেনাতে ধরা পড়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে। পুলিশ বলছে, আইনি ঝামেলা এড়াতে মাদক ব্যবসায়িরা নারীকে ব্যবহার করছে। এসব নারীর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। মহানগরীর ১২০ জন মাদক সম্রাট রয়েছে। এদের রয়েছে নারী সেলস্ ম্যান। মহানগরীর ডেবারপার এলাকায় ২জন, পাহাড়তলী ডেবারপাড় এলাকার ৪জন, কাপ্তাই রাাস্তার মাথা এলাকায় ২জন, পাহাড়তলী রেলওয়ে ষ্টেশন বাজার ও কলোনীতে ৩জন, বিআরটিসি মার্কেট এলাকায় ৩জন, মিয়া সওদাগর পুল এলাকায় ২জন, আকবর শাহ্ এলাকায় ৪জন, হালিশহর থানার ঈদগাও এলাকা, হালিশহর স্ক্র্যাপ কলোনী, ছোটপুল কাঁচা বাজার এলাকা, মাদারবাড়ী পানির ট্যাংকি এলাকা, এনায়েত বাজার ও বাদামতলী শুভপুর রেলওয়ে কলোনীতে ১ জন, রাহাত্তার পুল এলাকা ও বাকলিয়াতে ৪জন করে নারী মাদক ব্যবসায় জড়িত।
প্রায় মাদকসেবীদের সাথে রয়েছে থানা পুলিশ ও ফাঁড়ির সাথে যোগাযোগ। মাদক দফতর ও পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই মাদকসেবীরা অবাধে চালাচ্ছে ব্যবসা। প্রত্যেক থানার অঘোষিত ক্যাশিয়াররা এই চাঁদা সংগ্রহ করে। চট্টগ্রাম বাকলিয়া বাস্তুহারা বস্তি, রাহাত্তার পুল বস্তি, আগ্রাবাদ ছোটপুল ও এক্সেস রোড়ে, মাদার বাড়ী ও কদমতলীতে মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে বড় আখড়া।এসব আখড়ায় পুলিশ ও মাদক দফতরের সরকারি কর্তারা আসা যাওয়া করেন। ইয়াবা ট্যাবলেট থেকে গাঁজা হাত বাড়ালেই মিলছে চট্টগ্রামে। অলিগলি থেকে রাজপথ। লোকালয় বস্তি থেকে আবাসিক বা অভিজাত এলাকা সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি। পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অসাধু কর্তাদের প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায় প্রসার লাভ করছে মাদক।
টেকনাফ থেকে কক্সবাজার হয়ে মাদক প্রবেশ করছে চট্টগ্রামে।বাস, মাইক্রোবাস, কার, এ্যাম্বুলেন্স, টেম্পু, এমনকি মোটর বাইকেও আনছে অভিনব পদ্ধতিতে হরেক রকম মাদক। ইদানিং মাছের পেটের ভিতর করে মাদক পাচারের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চট্টগ্রামে হাত বদল হয়ে এই মাদক চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছে। নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় ও নগরীর বিভিন্ন স্পটে পুলিশ থাকলেও মাঝে মধ্যে লোক দেখানো চুনোপুটি ধরা পড়লেও রাঘব-বোয়ালরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বেশ কিছু দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এসব মাদক ব্যবসায়ীদের নানাভাবে সহযোগীতা ও মাসিক এবং সাপ্তাহিক মাসোহারা নিয়ে ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে। যার কারনে নগরীতে দিন দিন মাদকসেবীদের বিপরীতে রাস্তায় ফেনসিডিল বিক্রি করে বখাটেরা। ভ্রাম্যমান এসব বিক্রেতাদের সাথে টহল পুলিশের রয়েছে সম্পর্ক। নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে টহল পুলিশ চাঁদা আদায় করছে।মাদকসেবী, বখাটে, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ব বেড়েছে। নগরীর কোতোয়ালী ও ডবলমুরিং থানা এলাকায়।
নগরীতে কোন কোন জায়গায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কতিপয় সরকারি দলের নামধারী নেতাকর্মী জড়িত ইয়াবা ব্যবসা সহ নানা মাদক ব্যবসায়। পুলিশও এদের সমীহ করে চলে। কোন ঝামেলায় যেতে চায় না মাদক দপ্তরের কর্মকর্তা। যে কারনে অনেক সময় এরা সব জেনেও নিশ্চুপ থাকে।নগরীর আইসফ্যাক্টরীতে রেলওয়ে বস্তিতে মাদকসেবীদের দুইপক্ষের গোলাগুলিতে সাম্প্রতিক সময় একজন নিহত হয়। এই রেলওয়ের জমিতে গড়ে উঠা অবৈধ বস্তিতে দীর্ঘদিন যাবত চলছে মাদকব্যবসা। অথচ এই আইসফ্যাক্টরী রোড়ে অবস্থিত মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অফিসের পাশেই অবৈধ বস্তিতে অবাধে চলছে মাকদ ব্যবসা। বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় এই বস্তিতে। এই বস্তিতে মাদক ব্যবসা ছাড়াও অবৈধ অস্ত্রের বেচাকেনা ও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এই মাদক দফতরের পাশেই। এতে করে শুধু বস্তি নয়, আইসফ্যাক্টরী এলাকা কলুষিত করছে।
