সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব

0

সিটিনিউজবিডি :  উগ্রবাদ ও সহিংসতা বিরোধী কার্যক্রমে ইপসা’র চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন “সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব ” । বর্তমান বিশ্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদ ও সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেমন ধর্ম, বর্ন, ধনী, গরীব, নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর মধ্যে এই অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশে সহিংসতা ও অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী, শিশু, যুব সম্প্রদায় এমনকি বিভিন্ন সংখ্যলঘু সম্প্রদায় ও সাধারণ জনগোষ্ঠী। জাতীয়ভাবে এই অপরাধপ্রবণতা কমানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সাধারন জনগনকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সাধারন জনগনের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই শান্তিপ্রিয়। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সমাজে অশান্তি, সহিংসতা আমাদের কারোই প্রত্যাশিত নয়। তবুও মাঝে মাঝে কিছু সুযোগসন্ধানী, স্বার্থান্বেষী মানুষ সামাজিক শান্তি, স¤প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। আর বারে বারে শান্তিপ্রিয় মানুষেরা এই সব অপচেষ্টা কৃতিত্বের সাথে রুখে দিয়েছে। দল-মত, শ্রেণী-পেশার উর্ধে উঠে বাংলাদেশের মানুষ সহিংসতা প্রতিরোধ করেছে, সমাজে শান্তির বাতাবরণ বিনষ্ট হতে দেননি।

আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ ঐহিত্যগত ভাবে সামাজিক সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করে যা বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বড় ভিত্তি আর এটি বজায় রাখার জন্য যুবরা খুব বেশী অবদান রাখতে পারবে। বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা দেশে সহিংসতা ঘটতে এবং সহিংসতার পূর্বাভাষ দেখেছি। এ সহিংসতা ধর্মকে ব্যবহার করে, সাপ্রদায়িকতাকে উষ্কে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা’ সবার কাছেই দিবালোকের মতই প্রকাশ্য। এ দেশের মানুষ বরাবরই শান্তির সপক্ষে। সমাজে কোন সহিংস ঘটনা ঘটুক তা’ এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনও প্রত্যাশা করে না।

এ উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরী। উগ্রবাদ ও সহিংসতা বিরোধী কার্যক্রমের ইপসা’র চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তাগণ উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন। ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মোঃ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক শিউলি শরমা, শেড’র পরিচালক বাথাই মং, ইপসা’র পরিচালক (এসডিপি) মোঃ মাহ্বুবুর রহমান, পরিচালক (অর্থ) পলাশ চৌধুরী।

গতকাল ইপসা প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ইপসা কসসোর্টিয়ামের টীম লিডার খালেদা বেগম’র সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে মূল বিষয় উপস্থাপন করেন উক্ত প্রকল্পের ফোকাল পার্সন মোহাম্মদ শাহজাহান। আলোচনা সভা শেষে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিনটি সংস্থা যথাক্রমে শেড, হেলপ কক্সবাজার, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’র সাথে ইপসা’র চুক্তি স্বাক্ষর হয়। উক্ত প্রকল্পটি GCERF এর সহায়তায় ও বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইপসা ‘‘কক্সবাজার জেলার জনগণের সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধ” শীর্ষক প্রকল্প গ্রহন করেছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলার আওতায় ৪টি পৌরসভা ও ৭১ টি ইউনিয়নে উগ্রবাদ ও সহিংসতা নিরসন, সামাজিক সাম্যতা বজায় রাখা, বেকারত্ব দূরীকরন, ও যুব সম্প্রদায়ের মানসিক সুস্থ বিকাশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।

ইপসা কনসোর্টিয়াম বিভিন্ন বয়সের যুবদের নিয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আলাদা আলাদাভাবে সংগঠিতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করবে। এছাড়াও এ প্রকল্প নারী, সাধারণ জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.