আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

0

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই : চলতি অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখে ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিলো মিরসরাইয়ের যুবক আলী আকবর বাদশার (২৮)। দেশে এসেই প্রথমবারের মতো একমাত্র কন্যা সন্তানের মুখ দেখবেন। কিন্তু দেখা হবে না মেয়ের মুখ। দেশে আসবেন তবে লাশ হয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় আলী আকবর বাদশা নামের ওই যুবক নিহত হন।

তার বাড়ি উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তারাকাটিয়া গ্রামে। নিহত বাদশাহ ওই এলাকার মৃত মাহমুদুল হকের দ্বিতীয় পুত্র। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বড় ভাই আল আইন প্রবাসী নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭ টার সময় (বাংলাদেশ সময়) আল-লোগান সড়কের ২৪ নম্বর ইউর্টানে নিজের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, আল আইনে ভাড়ায় প্রাইভেট কার চালাতো ও ক্ষুদ্র ব্যবসা করতো তার ভাই। নিহত বাদশার লাশ ওখানকার আল আইন হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।
এদিকে বাদশার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনের অকাল মৃত্যুর খবরে চলছে শোকের মাতম। মা আনোয়ারা বেগম সিঁড়িতে বসে প্রিয় সন্তান হারানোর বেদনায় বিলাপ করছেন। স্ত্রী সাবরিনা সুলতানা ৭ মাসের একমাত্র কন্যা সন্তান আলিয়া তাবাচ্ছুমকে বুকে আগলে স্বামীর মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, মাত্র দেড় বছর পূর্বে আল আইন থেকে দেশে ফিরে বাদশাহ বিয়ে করেন মিরসরাই উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চুনিমিঝিরটেক এলাকার ফজলুল করিমের মেয়ে সাবরিনাকে। ৭ মাস পূর্বে তাদের কোলজুড়ে আসে একমাত্র কন্যা সন্তান তাবাচ্ছুম। মেয়ের জন্মের পর বাদশা দেশে আসেননি। পরিবারকে জানিয়েছেন আগামী ২৫ অক্টোবর তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। শেষতক দেখা হলো না একমাত্র কন্যা সন্তান তাবাচ্ছুমের মুখ।
নিহত বাদশার ছোট ভাই মোমিনুল হক জানান, দুর্ঘটনার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিলো বাদশার। মাকে বলছিলো নিজেদের জমি থেকে কিছু সবজি পাঠাতে। ছেলের কথামতো মা জমি থেকে সবজি সংগ্রহ করে প্যাকেট করছিলেন। কারণ ওইদিন বিকেলে বড় ভাই নজরুল ইসলাম আল আইন চলে যাওয়ার কথা।
প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেন জানান, মৃত মাহমুদুল হকও আনোয়ারা বেগমের ৭ সন্তান। তারমধ্যে ৫ ছেলে, ২ জন মেয়ে। বড় সন্তান নাছির হোসেন ১৯৮৭ সালে সীতাকুন্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মেজো ছেলে গিয়াস উদ্দিন মারা যান বাড়ির পুকুরে ডুবে। সর্বশেষ বাদশা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.