মিরসরাই প্রতিনিধি : ‘দেশের উন্নয়নে সড়ক চাই, বসতভিটা রক্ষার্থে ফ্লাইওভার চাই।’ ‘সড়ক চাই, ফসলি জমির ক্ষতি চাই না।’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাঁকা সড়ক চাই না, সড়কের উপর ফ্লাইওভার চাই।’ এমন সব ফেস্টুন ব্যানার হাতে নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলা সদরে মানববন্ধন করেছে ছয় লেইন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্থরা। রবিবার (২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদরে মানববন্ধন করেন মিরসরাই পৌরসভার গোভনীয়া, পশ্চিম মিরসরাই, তারাকাটিয়া ও সুফিয়া রোড়ের গ্রামবাসীরা। মানববন্ধন শুরুর পূর্বে উপজেলা সড়কে অবস্থিত মিরসরাই প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় গ্রামবাসী দাবি করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য দেশের সব স্থানে সড়কের পাশে বাইপাস করা হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য মহাসড়ক প্রয়োজন। কিন্তু মিরসরাই সদর অংশে মহাসড়কের পাশ দিয়ে ছয় লেনের ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যত্র দিয়ে দীর্ঘ বাঁক ঘুরিয়ে কার্য্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে গোভনীয়া, পশ্চিম মিরসরাই, তারাকাটিয়া ও সুফিয়া রোড় গ্রামবাসীর ৭ হাজার ৮ শত শতক ফসলী জমি, ৭৫ টি পরিবার, ২ টি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান, ৪ টি মহল্লার কবরস্থান, ২০ টি পুকুর, ৩০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখোমুখী হবে।
মহাসড়ক নির্মাণে যেখানে দীর্ঘ বাঁক এডিয়ে চলা হয় অথবা বাঁক থাকলে সোজা করা হয় সেখানে মিরসরাই সদর অংশে সম্পূর্ণ বিপরীত পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাই দীর্ঘ বাঁক সম্পন্ন বাইপাস না করে উড়াল সেতুর দাবী জানান ভূক্তভোগীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক শহীদুন্নবী, ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুল কাদের চৌধুরী, দাউদুল আলম, হাজ্বী মো. মাহতাব, মুসলিম উদ্দিন আজিম, জসিম উদ্দিন, আসমা আক্তার প্রমুখ। মানবন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহম্মদ সুমনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহম্মদ সুমন জানান, উড়াল সেতুর দাবীতে একটি স্মারকলিপি তাকে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।
