ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবেলা করেই এদেশের মানুষকে টিকে থাকতে হয়। মানুষ সচেতন থাকলে যেকোনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় পাশাপাশি প্রাণহানির শঙ্কাও কম থাকে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় ৬৯ দিন দেশ পানির নিচে তলিয়ে ছিল। সে সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছিল ওই বন্যায় বাংলাদেশে ২ কোটি লোকের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেইনি। দ্রুত মানুষের আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি। ওই সময় তার সরকারের পাশপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য বিতরণ করেছে। ওই সময় হেলিকপ্টারে ও নৌকায় করে শুকনা খাবার, রুটি পানি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছি আমরা।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক সময় দেখা যায় দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়ে উপদ্রুত এলাকার লোকজনকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। তাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়। কিন্তু তারা যেতে চান না। তাদের জোর করে ধরে নিয়ে যেতে হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানির আশঙ্কা বেড়ে যায় বা প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে বেশি করে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনি তৈরির আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রামপালের পরিবেশ ঠিক রাখতে সেখানে ৫ লাখ গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনি তৈরি করা হবে। এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
