দিলীপ তালুকদার : টানা ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে বিএনপি। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে দল সমর্থিত ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা এখন আর নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা করছেন না। কাউন্সিলের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও ঠিকমতো পরিশোধ করছেন না মাসিক চাঁদা।
আয়ের উৎস বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানও থমকে আছে। এ কারণে অফিসের স্বাভাবিক ব্যয় নির্বাহ ও স্টাফদের বেতন-ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। আর্থিক টানাপড়েনের কারণে এবারই প্রথম গঠনতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাদের মাসিক চাঁদা দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে।
গতকাল দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বিএনপিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে এমন শুভানুধ্যায়ীরা সরকারের সতর্ক দৃষ্টিতে রয়েছেন। দল সমর্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গুলশান কার্যালয়ে অফিস ও স্টাফদের মাসিক খরচ গড়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া নয়াপল্টন কার্যালয়ের স্টাফ ও অফিস খরচ প্রায় ২ লাখ টাকা। এ ছাড়া সভা-সমাবেশ, যাতায়াত, নেতা-কর্মীদের মামলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও বেশ কিছু টাকা খরচ হয়। প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হয় বিএনপির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে।
সূত্র জানায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আগের মতো লন্ডন থেকে টাকা ছাড় করাতে পারছেন না। কি আন্দোলন সংগ্রামে আগের মতো জামায়াতও অর্থ সাহায্য দিচ্ছেন না। সব মিলিয়ে দল পরিচালনা করতে হিমসিম থেতে হচ্ছে নেতাদের। বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির সবার কাছে বকেয়া চাঁদা পরিশোধের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।
