সিটিনিউজবিডি : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার কর্মী-সমর্থকদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সাফল্য পেতে হলে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মনে রেখ, দুর্বলের সঙ্গে কেউ হাত মেলায় না। নির্বাচনে জিততে হলে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।”
আর এই লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিভাগীয় সফর শুরুর কথা জানিয়ে এরশাদ বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে জাগিয়ে তুলব।”
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব সংহতি দলীয় কার্যালয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
একইসঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূতেরও দায়িত্বে আছেন। নিজের দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে সরকারেরও সমালোচনা করেন তিনি।
এরশাদ বলেন, “দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। জানমালের নিরাপত্তা নেই। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। একটি কনস্টেবলের চাকরিতেও আজকাল ৮-৯ লাখ টাকা লাগে। বেকারত্ব, হতাশায় আজ যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। খোদ রাজধানীতে কোথায় মাদক বিক্রি হয় প্রশাসন তা জেনেও কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। নেশাগ্রস্ত হয়ে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে প্রবল গণঅভ্যুত্থানে তখনকার জাতীয় পার্টি সরকারের পতন ঘটার পর দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক বছর জেলে থাকতে হয় সাবেক সামরিক শাসক এরশাদকে। কিন্তু তার দাবি, এখন দেশের মানুষ তার দলকেই আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়।
“গত ২৬ বছরে দুই দলের শাসনে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। মানুষ পরিবর্তন চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমাদের সামনে আবার সুযোগ এসেছে। যেহেতু আমরা নির্বাচনমুখী দল, কেউ অংশগ্রহণ করুক না করুক, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে।”
জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এরশাদকে দৃশ্যত আত্মবিশ্বাসী দেখা গেলেও আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না- সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
“জেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেকেই যেতে চায়, আমরাও অংশ নিতে চাই। কিন্তু নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে- তা নিয়ে আমি সন্দিহান। কারণ ভোটকেন্দ্র দখল ও জালভোটের সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে।”
অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী, সাহিদুর রহমান টেপা, পার্টি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক ও প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় এবং যুব সংহতির নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
