গোলাম সরওয়ার : চট্টগ্রামে শক্তিশালী একটি বৃহৎ দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে – চট্টগ্রামে ভারতীয় দুতাবাস থেকে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তি।নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে ৬০০ টাকায় ভিসা পাওয়া রীতিমতো দুঃসপ্নে পরিনত হয়েছে। আবেদন করার পর ই-টোকেন নিয়ে রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভিসা সেন্টারে প্রবেশ করতে পারে না অসংখ্য ভিসা প্রার্থী। তবে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দালাল ধরে যারা যাচ্ছেন তারা যাওয়ামাত্রই ভিসা সেন্টারে ঢুকতে পারছেন।প্রতিদিন চট্টগ্রামে খুলশী এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় দুতাবাসের ভিসা সেন্টারে গড়ে ৬শ থেকে ৭শ ভিসা হচ্ছে দালালদের মাধ্যমে। এসব ভিসাকে দালালরা নাম রেখেছে ”কন্ট্রাক্ট ভিসা”।এই ভিসার জন্য লাইনে দাঁড়ালে হয়। রাতভর জেগে থাকতে হয়না।এই প্রক্রিয়া শেষ করতে দালালচক্র প্রতিটি ভিসায় ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।এভাবে প্রতিদিন দালালচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা ভিসা প্রার্থীদের কাছ থেকে।
অনুসন্ধান ও সরেজমিনে জানা যায় যে,চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র তিন জনের হাতে জিম্মি।এরা হলেন,বিপুল ঘোষ,সুমন বিশ্বাস ও নোমান লিটন।বিপুল ঘোষ ষ্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার একজন কর্মকর্তা,লিটন বিশ্বাস ভিসা সেন্টারের দালালদের নেতা আর নোমান লিটন প্রভাবশালী দালাল। নগরীর কোতোয়ালী থানার কেসিদে রোড়ে ভিসা প্রসেসিং এর একটি দোকান রয়েছে তার। সুমন বিশ্বাস চট্টগ্রাম ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের ইনচার্জ। এই তিনজনের সাথে রয়েছে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ভিসা প্রসেসিং দোকানের সাথে রয়েছে যোগাযোগ।
ভারতীয় ভিসার জন্য ই টোকেন বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।কিন্তু এই ই-টোকেন বেশ কিছুদিন ধরে চলে গেছে অসাধু ও অবৈধ সিন্ডিকেটের হাতে।তারা ভিসার এই- ওয়েবসাইটটি হ্যাকিং বা জ্যাম করে রাখছে।এ কারনে ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করলেও সঙ্গে সঙ্গে ই-টোকেন নাম্বার পাওয়া যায় না।আবেদন করতে গিয়েই দালালদের হাতে পড়তে হয় ভিসা প্রার্থীদের।এই ই-টোকেন নিয়ে রমরমা ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছে বেশ কিছু এজেন্সী।মহানগরীর আন্দরকিল্লা,হাজারী গলি,চকবাজার ,দোস্তবিল্ডিং ও হাইকমিশন অফিসের সামনে মুদির দোকানের মত দোকান খুলে বসেছে দালালরা।প্রকাশ্যে ই-টোকেনের নিশ্চয়তা দেয়া হয় । যদিও এই ব্যবসাটি সম্পূর্ন অবৈধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়,নগরীতে ই-টোকেন এর জন্য এক মাসের নিশ্চয়তা দিয়ে ৩হাজার টাকা থেকে ৫হাজার টাকা নিচ্ছেন দালালরা।এদের মতে,মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০টাকার কমিশন পান দালালরা।ইদানিং এক সপ্তাহেও কোন কোন দালাল ভিসার ই-টোকেন সরবরাহ করতে না পারায় পাসপোর্ট জমা নিতেই পারছেন না।
ই-টোকেনের অভাবে শত শত মানুষ পড়েছে বিপাকে।এছাড়া ভিসা নিয়ে একশ্রেণীর দালালদের প্রতারনাও দিন দিন বাড়ছে।চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনে কোন ”হেল্ফ ডেস্ক”না থাকায় মানুষ ই-টোকেন পাওয়ার পর যদি ভিসা প্রত্যাখান হয় তবে কেন প্রত্যাখান হয়েছে সংশ্লিষ্ট বঞ্চিত ব্যক্তি অবগত হতে পারেননা।এমনকি সুবিধা-অসুবিধা কোন ব্যাপারে হাইকমিশনের কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলেও পারেনা।
বিদেশে বা দেশে প্রত্যেক দুতাবাসে বা হাই কমিশনে ’হেল্ফ ডেস্ক’ থাকলেও চট্টগ্রামে এই দুতাবাসে নেই।যার কারনে মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।চট্টগ্রামে মেডিক্যাল ভিসা ,টুরিষ্ট র্ভিসা,ভিজিট ভিসা কোন ভিসাই হয়রানী ছাড়া বর্তমানে ভিসাপ্রার্থীরা পাচ্ছেন না।
