আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদরিস আলমের দশম মৃত্যুবার্ষিকী

0

সিটিনিউজবিডি :  চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা,কবি, কলামিস্ট ইদরিস আলমের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৬ নভেম্বর রবিবার । এই উপলক্ষে বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইদরিস আলম স্মৃতি সংসদ এর উদ্যোগে এক স্মরণ সভা আয়োজন করা হয়েছে। ইদরিস আলম স্মৃতি সংসদের সভাপতি তৈয়বুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় উক্ত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক নাছিরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ,চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক এম, রেজাউল করিম চৌধুরী , প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হারিস।

উল্লেখ্য, আলোড়ন স্মৃষ্টিকারী রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট এবং “আমরা তখন যুদ্ধে” গ্রন্থের লেখক ইদরিস আলম ১৯৪৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বাকলিয়া শেখ-এ- চাটগাম কাজেম আলী মাস্টারের বংশে জম্মগ্রহন করেন এবং ২০০৬ সালের ৬ নভেম্বর ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।

প্রসঙ্গত : বীর মুক্তিযোদ্ধা,কবি, কলামিস্ট ইদরিস আলম তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় সক্রিয় রাজনীতি সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল খুব বর্ণিল। তিনি ছিলেন ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা। সে সময় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও কিংবদন্তি নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর হাত ধরে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ইদরিস আলমকে নিজ ছেলর মত স্নেহ করতেন জহুর আহমদ চৌধুরী। বলা হয় তৎকালীন সিটি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ২৩ নং নেস্ট হাউস, স্টেশন রোড ছিল ইদরিস আলমের স্থায়ী ঠিকানা । রাত দিন পড়ে থাকতেন সেখানে। স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলির সাক্ষী ইদরিস আলম। ওই সময়ে ঘটনাবহুল চট্টগ্রামের প্রতিটি আন্দোলনের পরতে পরতে জড়িয়েছিলেন ইদরিস আলম। বঙ্গবন্ধু ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের মানুষ।

রাজনীতির মেঠো পথে তিনি সুবক্তা হিসেবে খ্যাত ছিলেন। অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে চাটঁগায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁকে দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়েছিল। এর আগে তিনি ১৯৭১ সালে সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক, সিটি আওয়ামী লীগের ( ছাত্র অবস্থায় ) দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক এবং স্বাধীনতা উত্তর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বহুমাত্রিক জ্ঞান অন্বেষণে ব্যাপৃত ছিল ইদরিস আলম। নিত্যসঙ্গী বইয়ের জগতে বুঁদ হয়ে থাকতেন বেশির ভাগ সময়। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত কলম লিখতেন চট্টগ্রামের জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে।

চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে অবহেলিত, অনুন্নত ও শিক্ষাবিমুখ এলাকা ছিল বৃহত্তর বাকলিয়া। এলাকাটিতে শিক্ষার আলো জ্বালানোর লক্ষ্যে তিনি স্বাধীনতা উত্তর সময়ে চর চাকতাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর চাকতাই বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যেটি বর্তমানে চর চাকতাই সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.