জুবায়ের সিদ্দিকী : বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার এখন একটি বেসরকারী হাসপাতালে চাকরি নিয়েছেন। নিয়মিত অফিস করছেন। সৎ ও সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তা চাকরী থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চাকরী ফিরে পাওয়ার আবেদন করলেও তা ফেরত পাননি। এরপর থেকে আড়াল করে নেন নিজেকে। গত ১ নভেম্বর থেকে চাকরী করছেন একটি বেসরকারী হাসপাতালে। গত ৫ জুন চট্টগ্রামে খুন হন তার স্ত্রী মাহবুবা খানম মিতু। সাত মাসের তদন্তেও পুলিশ এই হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করতে পারেনি। হত্যাকান্ডের পর থেকে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা সামনে আসে। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সন্দেহভাজন আসামী মুসা সিকদার ওরফে আবু মুসা ও তার সহযোগী কালু।
পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় দুই সন্দেহভাজন রাশেদ ওরফে ভাগিনা রাশেদ ও আব্দুুল নবী। এসব ঘটনা এবং বাবুল আক্তারের চাকরি ছাড়া বা ফিরে পাওয়ার আবেদন সাধারন মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরী করেছে। ৬ সেপ্টেম্বর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় বাবুল আক্তারকে। ১ নভেম্বর তিনি একটি বেসরকারী হাসপাতালে কাজে যোগ দেন। চট্টগ্রামে মিতু হত্যার সাতমাস চলে গেছে। কিন্তু কি কারনে তিনি খুন হয়েছেন সে তথ্য এখনো সামনে আসেনি। অন্ধকারে রয়েছে এ মামলাটি। হত্যাকান্ড নিয়ে ২টি মামলা হয়েছে থানায়। এর মধ্যে হত্যার ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এবং হত্যায় ব্যবহুত অস্ত্র মামলায় ২ আসামী ভোলা ও মনির হোসেনের বিচার শুরু হয়েছে। তবে হত্যা মামলায় তদন্ত এখনও শেষ করতে পারেনি চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই হত্যাকান্ডের ’মাষ্টার মাইন্ড’ মুসাকে গোয়েন্দা পুলিশ খুঁজছে।
তাদের মতে, মুসাকে পাওয়া গেলেই মিতু হত্যার নির্দেশদাতা কে- তা বের হয়ে আসবে। এদিকে মুসার পরিবারের দাবী, মুসাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ বলছে মুসাকে তারা আটক করেনি! তাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করেছে। মামলাটি এখন থমকে আছে। মিতু হত্যাকান্ডের রহস্য যেন রহস্যের ভেতরেই রয়ে গেছে। জট খুলছে না এই মামলার। একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ঘটে ঘটে যাওয়া তার নাটকীয় দুর্ঘটনায় এখন একজন পাবলিক। দুই সন্তানের দেখাশোনা ও অফিস করেই তার জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। সেই বাবুল আক্তার এখন একটি বেসরকারী হাসপাতালের পরিচালক হিসেবেই চাকরী করছেন। মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা ও শ্রদ্ধারপাত্র বাবুল আক্তারের আগামী দিন হোক শান্তির এমন প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর।
