জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট বেচাকেনা

0

জুবায়ের সিদ্দিকী : জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে একেবারে আগেভাগে শুরু হয়েছে ভোট বেচাকেনা। প্রথমবারের মত ভোট অনুষ্টিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে প্রভাবশালী প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ডিজিটাল পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দান নিশ্চিত করতে সিলমারা ব্যালটের ছবি মোবাইলে তুলে আনার শর্তে মোটা অংকে কেনা হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের ভোট। এমন ভোট বেচাকেনা শুরু হওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরা। তারা বলছেন, এ নির্বাচনে অভিনব পদ্ধতিতে ভোট বেচাকেনা হলে প্রভাবশালী প্রার্থীদের কাছে আগেই হেরে যেতে বাধ্য হবেন তারা। জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার হচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা এবং ভোটার সংখ্যাও কম।

এসব ভোটারদের কাছে রয়েছে ষ্মার্ট ফোন। এই ফোন ব্যবহার করে সিলমারা ব্যালটের ছবি খুব সহজেই তোলা সম্ভব। কেননা ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে আর কেউ থাকবে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা জনপ্রতিনিধিদের আওয়ামী লীগের হলে মুজিব কোর্ট, বিএনপির হলে সাফারী স্যুট, মহিলাদের জন্য শাড়ি বিতরনের একটি গোপনীয় স্কীমও হাতে নিয়েছেন। এই লক্ষ্যে অনেকে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অত্যন্ত গোপনে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোট কেনাবেচার হাট বসতে পারে গোপনে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে শক্ত প্রার্থী না থাকলেও ভোটের আগেই উপহার পৌছানোর গোপন পরিকল্পনায় বিভিন্ন উপজেলায় ফোন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীকেও কিনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভোট কেনার চেয়ে প্রার্থী কেনার পেছনে টাকা লাগাচ্ছে বেশি। এই টাকার কোন হিসাব নেই। যে জেলায় মাত্র দুই তিনজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, সেখানে অপর দুই প্রার্থীই এখন প্রভাবশালী প্রার্থীর মুল টার্গেট বলে জানা গেছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি প্রয়োগে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে ইসি। এ জন্য একটি বিশেষ পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহল এখনই অনেক জনপ্রতিনিধিকে বশে আনতে কৌশল ও বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন সহ টাকার ছড়াছড়ি করারও পরিকল্পনা নিচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের চামচা, চাটুকার ও সুবিধাভোগীরা আগেভাগেই দালালীতে নেমে পড়েছেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.