বিজয়ে নিষ্প্রান চট্টগ্রাম ওয়াসা, জাতীয় পতাকা তোলা হয় না
গোলাম সরওয়ার : বিজয় দিবস আসে বছরের শেষে। সারাদেশ বিজয়ের উৎসবে উজ্জিবিত হয়ে থাকে বিজয়ের মাসে । প্রশ্ন আসে মনে বিজয় দিবসে কী শুধু বিজয়ের দিনটি স্মরণ করার জন্য ? মনে হয় শুধু দিনটি স্মরণ করে পালন করা যথেষ্ট নয়। বিজয় দিবসে আমাদের নতুন বিজয় অর্জন করতে হবে। বিজয়ের মাসে আমাদের সকলকে অঙ্গিকার করতে হবে সাম্প্রদায়িক মুক্ত দেশ গড়া । অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সরকারি অফিসগুলোতে নিয়মিত জাতীয় পতাকা তোলা হয় না ।বিজয় দিবসে নিষ্প্রান হয়ে আছে এসব সরকারি অফিসগুলো ।
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও অফিসে সকল কর্মদিবসে ‘জাতীয় পতাকা’ উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও চট্টগ্রাম ওয়াসায় দেখা মিলেনা জাতীয় পতাকার। নির্ধারিত কিছু দিবস ছাড়া ওয়াসায় উঠে না পতাকা। এমনিক এ বিজয়ের মাসেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছে না ওয়াসা। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের এ নিদর্শন অবমাননার অভিযোগ উঠছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, প্রতিদিন পতাকা উত্তোলনের নিয়ম আমাদের নেই। এগুলো ডিসি অফিস, কমিশনার অফিস আরো কতোগুলো জায়গা আছে, আমরা অথরাইজ না। সরকারে অথরিটি দেওয়া আছে, এখানেই শুধু পতাকা তুলতে পারবে। আমরা দিবসগুলোতে তুলতে পারবো। এটাই নিয়ম।
জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০)-এ জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিভিন্ন বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের নিদর্শন। তাই সব সরকারি ভবন, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভবনে সব কর্মদিবসে পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কিছু কিছু অনুষ্ঠান উপলক্ষে যেমন, ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্য যেকোনো দিবসে বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রাঙ্গণে এবং কনসুলার কেন্দ্রগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক।

তা ছাড়া শহীদ দিবস ও জাতীয় শোক দিবসে বা সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্যান্য দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকার বিধান করা হয়েছে। অর্ধনমিত অবস্থায় উত্তোলনের প্রাক্কালে পতাকাটি পুরোপুরি উত্তোলন করে অর্ধনমিত অবস্থানে আনতে হবে এবং পতাকা নামানোর প্রাক্কালে পতাকাটি শীর্ষে উত্তোলন করে নামাতে হবে। জাতীয় পতাকা কোনো অবস্থায়ই সমতল বা সমান্তরালভাবে বহন করা যাবে না এবং উত্তোলনের সময় সুষ্ঠু ও দ্রুতলয়ে উত্তোলন করতে হবে এবং সসম্মানে অবনমিত করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে হবে এবং যখন জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রদর্শিত হয়, তখন উপস্থিত সবাইকে পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। মোটরগাড়ি, নৌযান, উড়োজাহাজ ও বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য সময় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর কোনো মতেই পতাকা উড্ডীয়ন অবস্থায় থাকবে না।
জানা যায়, ফিনল্যান্ড, জার্মানি এবং ডেনমার্কে জাতীয় পতাকার অবমাননা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আরব বিশ্বের অনেক দেশেই জাতীয় পতাকায় ইসলামিক স্বাক্ষর রয়েছে। এসব দেশে জাতীয় পতাকার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় এবং জাতীয় পতাকার নূনতম অবমাননাকে ইসলামের অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হয়৷ ভারতেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিকে পতাকার অবমাননার জন্য শাস্তি পেতে হয়েছে ৷ আমাদের দেশের মানুষ কেন হবে উদাসিন? নীতিমালা অবমাননার শাস্তি ২০১০ সালের জুলাই মাসে এই আইন সংশোধিত হয় ৷ এই সংশোধনীতে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত শাস্তি এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে বিধান রাখা হয় ৷
পতাকা উত্তোলনের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুধু ওয়াসা নয়, সবগুলো সরকারি-স্বয়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। এমনকি সরকারি ভবনগুলোতেও পতাকা উত্তোলনের নিয়ম আছে। বিশেষ দিবসগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। যদি কেউ সেটা না করে, তাহলে পতাকার অবমাননা করা হবে।
সূত্র মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারী ভবন এবং অফিসসমূহ, যেমন-রাষ্ট্রপতির বাসভবন, সংসদ ভবন প্রভৃতি, সকল মন্ত্রণালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সচিবালয় ভবনসমূহ, হাইকোর্টের অফিসসমূহ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসমূহ, বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার/কালেক্টর, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের অফিসসমূহ, কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারসমূহ, পুলিশ স্টেশন, শুল্ক পোস্টসমূহ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এইরূপ অন্যান্য ভবন এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত ভবনসমূহে সকল কর্মদিবসে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলিত করতে হয়।
