ফেইসবুক স্টেটাস ২ দিন আগে দেওয়া রায়হান নিহত
বশির আলমামুন,চকরিয়া : এখন থেকে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে দিয়েছি যে কোন সময় আল্লাহপাকের ইশারায় না ফেরার দেশে চলে যেতে পারি।জীবন হল ক্ষণস্থায়ী ,দীর্ঘস্থায়ী হয়না।পৃথিবীতে স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। আমার ব্যক্তি জীবনে এখনো স্বাধীনতা পেলাম না।পেলাম না একটা শুস্থ্য কথার মূল্যায়ন।বন্বু বান্বব সবাই দোয়া করবেন।আচার আচরণে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন। উপরোক্ত কথা গুলো ১৪ ডিসেম্বর অর্থা ১৬ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার ২ দিন আগে নিজের ফেইসবুকে লিখেছিলেন চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ঢালায় সড়ক দূর্ঘটনায় অকালে ঝরে যাওয়া আলী রিয়াজ রায়হান। হয়তো আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল এমন একটি দূর্ঘটনা তার জন্য অপেক্ষা করছে। অবশেষে ২ দিন পর তার লিখা ফেইসবুক স্টেটাসটি বাস্তবতায় পরিণত হল। পরিবার আত্বীয়স্বজন সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ফেইসবুকের স্টেটাসটিই এখন সকলের মাঝে রেখে গেছেন সারা জীবনের স্মৃতি হিসেবে।

চকরিয়া পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্বনিছপানখালী গ্রামের মাষ্টার মো: ইলিয়াছের ছেলে আলী রিয়াজ রায়হান(২৩)। চকরিয়া সিটি কলেজের ২য় বর্ষ বানিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিল। ১ ভাই ৩ বোনের মধ্যে রায়হান ছিল সকলের বড়। পিতা পৌর সভার উম্মেহাতুল মোমেনিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।
নিহত রায়হানের চাচা মো: ইসমাইল জানান পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পড়ালেখা শেষ না করেই বড় ছেলেহিসেবে কর্তব্যের তাগিদে দেড় বছর পূর্বে রায়হান মালেয়শিয়া চলে যায়। সেখান থেকে ৬ মাস পূর্বে দেশে ফিরে আসে। পরে চকরিয়ায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকুরী নেয়। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত ছিল সে।
তিনি আরো জানান গাড়ী দূর্ঘটনার দিন সকালে সে ডুলাহাজায় তার এক দাদার ফাতেহায় গিয়েছিল। দুপুরে ম্যাজিক গাড়ীতে করে বাড়ী ফেরার পথে চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ফাাঁসয়াখালীর রিংভং সেগুন বাগান এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।
এসময় তার সাথে আরো প্রাণ হারায় ২নারী সহ ৪ জন। খুবেই আশ্চর্য্যজনক বিষয় হল মাত্র ২ দিন আগেই রায়হান তার ফেইসবুকে লিখেছিল না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার কথা। তার এ কথাটি এখন চকরিয়ায় সকলের মূখে মূখে আলোচনার ঝড় বইছে। আলী রিয়াজ আবু রায়হান একটি ফুটন্ত গোলাপ, অধম্যমেধা শক্তির অধিকারী টগবগে যুবক। জীবন যুদ্বে এক সংগ্রামী মহা নায়ক।কিন্তু সংগ্রামী জীবন শুরুর আগেই ঘাতক একটি সৌদিয়া বাস নিভে দিল তার জীবন প্রদীপ।
