নতুনের জয়গান হোক ২০১৭ সাল

0

আবছার উদ্দিন অলি/ গোলাম সরওয়ার : স্বাগতম ২০১৭। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা । উম্মোচিত হোক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত ২০১৭ সাল । সে যাই হোক আশা করি নিরাশার দোলা চালেইতো জীবন চলে। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে পর্যন্তইতো মানুষ আশায় বাঁচে। তাই ক্ষেত্র বিশেষে অতীতের স্বীয় ব্যর্থতার গ্লানিকে পিছনে ঠেলে দিয়ে নতুন বছরের পথ পরিক্রমার যাত্রাকালে এ পৃথিবীটার সবার জন্যে সুখ কামনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ছাড়া চৌচির কোন মাঠ ফসলের চৈতি ক্ষরায় কান্না কারো কোন দুঃখ ব্যাধি জ্বরায় নির্ঝর বারিধারা বিমূর্ত হাসি আশার একান্ত কাম্য। অনোদার যুদ্ধ বারুদের মানুষ মারায় নিত্য দিবারাত সন্ত্রাস জীবন পাড়ায় শান্তির প্রচ্ছায়া চিরায়ত খুশী আমাদের প্রানান্ত চাওয়া। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় স্বাধীন স্বদেশ প্রিয় মাতৃভূমিকে গড়ে তোলার বিমূর্ত অঙ্গীকারে- যে কোন ত্যাগ স্বীকারে হাঁ বলার সৎ সাহসে উদ্দীপ্ত আমরা।

নতুন বছর, নতুন আনন্দ, নতুন করে পালা। সব দুঃখ বেদনা হতাশা ভুলে বরণ করে নিব ২০১৭ সালকে। ভালো কাজ, সুন্দর মন ও সমৃদ্ধশালী শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যাশা সবসময়। ২০১৭ সালে আমাদেরকে নতুন চিন্তা চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। হিংসা বিদ্ধেষ হানাহানি খুন রাহাজানি হত্যা রাজনীতিক অস্থিতিশীলতা আমাদের কারো কখনো কাম্য নয়। ঝিমিয়ে পড়া সংস্কৃতিকে চাঙ্গা করে দেশীয় সাংস্কৃতিকে উজ্জ্বল আলোই আলোকিত করতে হবে। সবার আগে আমরা আমাদের মনকে সুন্দর করতে হবে। তখনই সুন্দর হবে সমাজ, রাষ্ট্র, দেশ, তথা পরিবার এবং আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। নতুন আলোয় আলোকিত হোক ২০১৭ সাল। ২০১৭ সালে আমরা নতুন আশার বুক বাঁধব। ২০১৭ সালে উম্মোচিত হোক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

কথায় বলে, সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না, সত্যি সময়কে কেউ ফেরাতে পারে না। পৃথিবীতে যে যতই বড়োই হোক না কেন, সময়কে ফেরাতে পারবে না। তাই কালের নিয়মে আমাদের জীবনে এক একটি বছর আসে। আর হাসি-কান্না আনন্দ বেদনা ও শত ঘটনার সাক্ষী হয়ে এক একটি বছর চলে যায়। আমাদের চোখের সামনে নতুন বছর যতটা আনন্দ নিয়ে আসে আমাদের জীবনের ঠিক ততোটাই বেদনার সাথে বিদায় নেয়। তাই একটি বছর চলে গেলে আমরা অতীতের স্মৃতিচারণ করি, পুরনো হিসেব-নিকাশে মেতে উঠি। ঠিক, কালের নিয়মেই আমাদের জীবন থেকে খসে গেলো ২০১৬ অর্থাৎ আরো একটি বছর। শত চেষ্টায়ও আর কোনোদিন আমরা বছরটিকে ফিরে পাবো না সে সুযোগ আমাদের হাতে নেই। তবে আমাদের কাছে একটি সুযোগ আছে বিদায়ী ২০১৬ সালে আমরা কি পেলাম, কি হারালাম সে হিসাবটা মেলাতে পারি।

কেবল ঐতিহ্যবোধের লালন এবং নিজের দায়িত্ব পালন ছাড়া ওরা যা যা করে সবই যথাযথ ভাবে পালন করি আমরা। ওদের দেহ সর্বস্ব নাচ গানের মতই আমরাও নাচি, গাই পছন্দ করি ওদের লাইফ ষ্টাইল। কিন্তু ওরা যা করে তার সবই কি ভাল। সবই কি আমাদের জন্য উপযোগী? আমাদের সমাজ বাস্তবতা কি কখনো ভাবা হয়? ওদের তো ভাল অনেক কিছুই আছে। সে সবের কতটা অনুসরণ করি আমরা? বিরক্ত হয় অতিষ্ঠ হয় এসব ঐতিহ্য কৃষ্টির পরিপন্থী তৎপরতা বর্জন করলে ক্ষতি কি? এসব আয়োজন অনুষ্ঠানের সাথে তো আমাদের গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকারের কোন মিল নেই।

মানব সভ্যতার আলোকেই একদিন মানুষ এক সেকেন্ডকে সময়ের একক হিসেবে ধরে নিয়ে তারপর মিনিট, ঘন্টা, দিন মাস বর্ষ শতাব্দী ইত্যাদির গণনা শুরু করে। সময় হল অখন্ড এক চিরন্তন গতি। সময়ের ভিতরে পৃথিবীর সকল প্রাণীর জন্ম মৃত্যু ক্রমাগত ভাবে চুটে চলছে। সময় কারো পক্ষপাতিত্ব করে না। আমিও তাই উন্মুক্ত সময়ের মুক্ত মানুষ হয়ে কর্মফলকে বিশ্বাস করি। কথায় আছে যৎ কর্ম তৎ ফল। অতএব, এই নববর্ষটি কি রকম হওয়া উচিত এই বিষয়ে নিছক কথার ফুলঝুরি না ছড়িয়ে আমি আমার সকল কর্মে বলনে চলনে দায়িত্ব পালনে আগামী দিনগুলোর প্রতিটি মুহুর্তকে সততার সাথে সৃজনশীল করে তুলতে চাই। তবে স্বাধীন দেশের সমষ্টিগত নাগরিকদের একজন হয়ে এই নববর্ষে সীমাহীন আনন্দ পাব যদি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক কাজ দ্রুত শেষ করে ফাঁসির রায়গুলো কার্যকর হয়ে যায়। “জয় বাংলা” শ্লোগানের মর্মবানী এই প্রজন্মের মনে প্রাণে ও মননে মিশিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরো আরো শাণিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অতপর বাদবাকি পাকিস্তানি জারজ, ঘাতক, দালাল, রাজাকারদেরকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করে প্রিয় মাতৃভূমিকে পবিত্র করা হয়। যেহেতু জনতার ক্ষমতা এখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দলের হাতে। আশা করি এ বিষয়ে নিরাশ হবো না। এই নববর্ষে যেন লাখো শহীদের আত্মার গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হয়ে যায়।

মানুষের জীবন থেকে যে দিনটা চলে যায় সেটাই ভালো এটাই সবার ধারনা। আমাদের জীবন থেকে হয়তো সুন্দর একটা বছর চলে গেলো কেউ সামনে গিয়েছে কেউ পিছে পড়ে রয়েছে তবুও বছর চলে যাচ্ছ্ েআর এটাই আমাদের বড় একটা দুঃখের বিষয় যে আমরা আমাদের জীবন থেকে এক একটা বছর হারিয়ে ফেলছি। হয়তো যে ফুল ফোটার কথা ছিল সেটা ফুটেছে, পাখিও ভোরে ডেকেছে, শীতও এসেছে, কিন্তু যা পাওয়ার তা-কি আমরা পেয়েছি। পাওয়া না পাওয়ার হিসেবেই সব মানুষই ব্যস্ত। বর্ষ বিদায় আমাদের সামাজিক অনুষ্ঠানের বিচিত্র সমারোহে জড়িত থাকা প্রকৃতির বিদায়ী উৎসব। শীতের হিমেল হাওয়ায় রক্তিম উচ্ছাসে যে সম্ভাবনায় প্রতিচ্ছবি মূর্ত হয়ে উঠে আমাদের বর্ষ বিদায়ের কর্ম কল্পনারয় তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে যাকে খুঁজে পাওয়া যায় না তাকে খুঁজে মানুষের মন প্রাকৃতিক চক্রকার আবর্তে অনুভব করে তাদের কাংখিত সময়ের পুনরাগমনের পদধ্বনি। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। স্বাগতম ২০১৭।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.