মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি: রাঙামাটির বরকল উপজেলার ১৭টি সরকারি দফতরের মধ্যে ৮টি দফতরে কর্মকর্তা না থাকায় দাপ্তরিক কর্মকান্ডে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ওই ৮টি সরকারি দফতরে অন্য উপজেলার কর্মকর্তাদের ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। ভারপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা নিয়মিত দফতরে না থাকায় সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়- বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দফতরে অন্য উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে। রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনী আক্তারকে অতিরিক্ত দায়িত্বে রেখে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে গত দু’বছর ধরে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলতাব হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ২০১০ সালের আগষ্ট মাসে সমাজ সেবা কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা বদলির পরে ওই পদে আর কোন কর্মকর্তা নেই। রাঙামাটি সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চাকমাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে রেখে অফিস চালানো হচ্ছে। বিশ্বজিৎ চাকমা রাঙামাটি সদর উপজেলা,বরকল উপজেলা ও বিলাইছড়ি উপজেলার সমাজ সেবা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। বরকল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাছিরুল আলম ২০১৫ সালের মে মাসে অন্যত্র বদলি হয়েছেন। তখন থেকেই তার পদটি শূন্যই রয়ে গেছে। সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ন কবির বদলির পর থেকেই ভেটেরিনারী সার্জন পলি রানী ঘোষকে ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়। এখনো শূন্য রয়েছে ওই পদটি। ২০১৫ সালে উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বদলির পরে উপজেলা প্রকৌশলীর পদটি শুন্য হয়। বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী এসএম মাহাবুবুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। ২০০২ সালের জুলাই থেকে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে জেলার উপ-পরিচালক মানবেন্দ্র নারায়ণ দেওয়ান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ওই কর্মকর্তা বরকল উপজেলা ছাড়া ও জেলার সদর উপজেলা,কাপ্তাই, জুরাইছড়ি, বিলাইছড়ি, কাউখালী ও নানিয়ারচর উপজেলাসহ ৯টি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়। এছাড়া বরকল উপজেলায় কোন মৎস্য অফিস না থাকায় জুরাছড়ি উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা দীপন চাকমাকে উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দফতরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, আমি বিষয়টি স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে তুলবো এবং দ্রুত সমাধান করতে বলবো। কর্মকর্তা না থাকলে জনগণ ভোগান্তির শিকার হবে। অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা মানুষ কয়টা দায়িত্ব পালন করবে। এটা তাদের জন্য কঠিন ব্যাপার। এভাবে চলতে পারে না।
