সিটিনিউজ ডেস্ক : স্বাধীনতার স্বাদে উদ্বেলিত গোটা জাতি। কখন ফিরবেন প্রিয় মানুষ। উত্তাল জনতা। শাসরুদ্ধকর অপেক্ষায় রইলেন। আবেগে আপ্লুত জনতা। জনতার ভালোবাসায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উদ্দেশে বললেন, ‘রক্ত দিয়ে হলেও আমি বাঙালি জাতির এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করে যাবো।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কথা রেখেছিলেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা পাওয়া বঙ্গবন্ধুকে খোদ পাকিস্তান সরকার একটি ফুলের আঁচড়ও দিতে সাহস পায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিতে হয়েছে তার প্রিয় বাঙালির হাতেই।

আজ ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন বাঙালির স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য বাংলাদেশ জন্মের পর ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। এর দু’দিন আগে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান।
স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হলেন সেদিন। আনন্দ-বেদনার অশ্রুধারা নামলো তার দু’চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ বাতাস।
জনগণনন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি বক্তৃতায় বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এতো ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এতো ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এতো ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কি-না। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।
