দিলীপ তালুকদার : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান এম এ ছালাম বলেছেন, একটি শিক্ষিত ও দেশ প্রেমিক জনগোষ্ঠী ছাড়া একটি উন্নত দেশ সম্ভব নয়। আজ ২৯ জানুয়ারী চট্টগ্রামের সিনিয়রস্ ক্লাবে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, বাঙালি জাতির সেরা অর্জন মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার জন্য অগ্রাধিকার দিয়েছি।
যেখানে যেখানে যুদ্ধ হয়েছে চট্টগ্রামের যেখানে যেখানে বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলি তালিকা করে সেখানে কি ঘটনা ঘটেছিল সেগুলি তুলে ধরে সংরক্ষনের পরিকল্পনা নিয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা আর এস রেকর্ডে কি ছিলাম, পি এস রেকর্ডে কোথায় ছিলাম আর এখন বিএস রেকর্ডে কোথায় এসেছি সর্বোপরি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পৃথিবীর অন্যকোন দেশের নেই।
আমাদের সেসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে না পারলে আমাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, একটি দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী ছাড়া একটি উন্নত দেশ সম্ভব নয় তেমনি একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়াও একটি উন্নত দেশ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সারা বাংলায় জেলা পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয় ১৮৮৫ সালে। সুদীর্ঘ ১৩১ বছর পর জেলা পরিষদের নির্বাচন হলো। ১১ জানুয়ারী শপথ নেবার পরই আমি আমার সকল সদস্যদের নিয়ে আপনাদের সাথে মতবিনিময় করছি। তিনি বলেন, আমি আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ৪ বারের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। শেষ বার আমি দায়িত্ব নিতে না চাইলেও গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী মোশারফ ভাই একপ্রকার জোর করে দায়িত্ব দেন। হাটহাজারী আসনে আমাকে মনোনয়নও দেন কিন্তু মহাজোটের কারনে দলের স্বার্থে আমি ছেড়ে দিয়েছি।
এর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে চট্টগ্রাম জিলা পরিষদের দায়িত্ব দেন। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব পাবার পর স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা দিয়ে নীরবে নিভৃতে অনেক ছোট ছোট কাজ করেছি। চট্টগ্রামের ১৪ টি উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষনে কাজ করেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দেয়ার পরে বলেছিলেন, জেলা পরিষদের বেহাত হয়ে যাওয়া জায়গা ভূমি উদ্ধার করে সেখানে জেনারেটিভ প্রজেক্ট করে মানুষের কল্যানে কাজ করতে। সেমত কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের কবি দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের কবিতার লাইন উল্লেখ করে বলেন-
“ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে-দেশ, স্মৃতি দিয ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি”। আমাদের দেশ আমাদের জন্মভূমি সত্যিই একটি রানী।
তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাইদের কাছ থেকে যখন যেমন প্রয়োজন সে রকম সহযোগীতা পেয়েছি । আগামীতেও তার পাশে থাকার জন্য তিনি সকল সাংবাদিকদের আহবান জানান। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম সর্বাগ্রে এগিয়ে থাকলেও ঢাকার মত বই মেলার আয়োজন থেকে পিছিয়ে আছে। তিনি পরিষদ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবছর একটি বইমেলার আয়োজন করা হোক এবং বই প্রকাশনায় প্রনোদনা দেবার দাবী জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন অধিকারী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সারওয়ার, সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী, টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক, সকল প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন, অঞ্জন সেন, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, এম নাসিরুল হক, নূর মোহাম্মদ রফিক, মোয়াজ্জেমুল হক, শহিদুল আলম, জসিম চৌধুরী সবুজ, এজাজ ইউসূফী, রোকসারুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম শহিদ, নঈম উদ্দিন, রফিকুল বাহার, নাসির উদ্দিন তোতা, একরামুল বুলবুল, মান্নান মেহেদী, দিলীপ তালুকদার প্রমখ। এর আগে জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত সকল সদস্যবৃন্দ নিজ নিজ পরিচয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা পরিষদ সচিব সাব্বির ইকবাল। অনুষ্ঠান শেষে সবাই মধ্যহ্ন ভোজে অংশ নেন।
