শীঘ্রই চসিকের করের আওতায় আসছে তারকা হোটেল

0

বিশেষ প্রতিবেধক :  চট্টগ্রাম নগরীর তারকা হোটেলের গ্রাহকদের করের আওতায় শীঘ্রই অর্ন্তভুক্ত করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন(চসিক) । সরকারি গ্যাজেট প্রকাশিত হওয়ার এক বছর পর ‘নগর কর’ নামে এ কর আরোপ করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এতে তারকা হোটেলের কক্ষ বুকিংয়ের উপর নির্ধারিত হারে নগর কর দিতে হবে। নতুনভাবে আরোপিত এ কর কার্যকর করা গেলে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধি পাবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত হোটেলে অবস্থানকারীর ওপর হোটেলভেদে ভাড়ার ওপর ৩ থেকে ৫ শতাংশ ‘নগর কর‘ আদায় করা হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সাথে এই কর আদায় করে সিটি কর্পোরেশনকে দেবে। এতে তিন তারকা হোটেলের অবস্থানকারীদের কাছ থেকে তিন শতাংশ, চার তারকা হোটেলের অবস্থানকারীদের উপর চার শতাংশ এবং পাঁচ তারকা হোটেলের অবস্থানকারীদের উপর পাঁচ শতাংশ হারে কর আদায় করবে।

এ বিষয়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হোটেল মালিক প্রতিনিধিদের সাথে আমরা কথা বলেছি। তাদের কাছে আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি আরোপ হলেও হোটেলের কর আরোপ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স ফি বিধ্যমান আছে, সেটাকে বাড়ানো হয়েছে। হোটেলের অবস্থানকারীদের উপর কর আরোপ নতুন বিষয়। নতুন সংযুক্ত হওয়াতে এটা আরোপে কিছুটা সময় যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন শাখা-২) গত বছরের ৩১ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল ২০১৬‘ নামে এ প্রজ্ঞাপনে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ানো হয় ট্রেড লাইসেন্স ফি। প্রজ্ঞানে নতুনভাবে তারকা হোটেলগুলোর উপর কর আরোপ করা হয়। এ কর বুকিং মানির উপর আরোপের কথাও বলা হয়। প্রজ্ঞাপনটি জারি হওয়ার পর থেকে বর্ধিত লাইসেন্স ফি নিয়েই সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করতে শুরু করে। তবে আরোপিত তারকা হোটেলগুলোর গ্রাহকদের কাছ থেকে কর আদায় করা হয়নি গত এক বছরেও। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছর থেকে এ কর আদায়ের লক্ষে নতুন কর তফসিল কার্যকর করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে চসিক।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা ৮৪ এর ক্ষমতাবলে সরকার সিটি কর্পোরেশনগুলোর জন্য ‘আদর্শ কর তফসিল ২০১৬’ নামে প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (সিটি করপোরেশন শাখা-২) এর নামে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। কর্পোরেশন আইনের ৮৪ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার, আদর্শ কর তফসিল প্রণয়ন করিবে এবং সিটি কর্পোরেশন, কর, উপ-কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপের ক্ষেত্রে উক্ত রূপ প্রণীত আদর্শ কর তফসিল নমুনা হিসাবে অনুসরণ করিবে।

এরপর বলা হয়েছে, ৮৫। (১) সরকার, করপোরেশনকে -(ক) আরোপণীয় যে কোন কর, উপ-কর, রেইট, টোল অথবা ফিস আরোপ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে; (খ) দফা (ক) এর অধীনে আরোপিত কোন কর ইত্যাদি হ্রাস বা বৃদ্ধি করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে; (গ) দফা (ক) এর অধীনে আরোপিত কোন কর ইত্যাদি হইতে কোন ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে অব্যাহতি দিতে অথবা উহা স্থগিত রাখিতে বা প্রত্যাহার করিতে নির্দেশ দিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত কোন নির্দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পালন করা না হইলে, সরকার স্বয়ং, আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ নির্দেশ কার্যকর করিতে পারিবে।

প্রসঙ্গত, নির্ধারিত নিয়মে ট্রেড লাইসেন্স করার পর প্রতি বছর নির্ধারিত হারে ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি সিটি কর্পোরেশনগুলোর রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.