মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি::রাঙামাটি সদর উপজেলার জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ২৮ তারিখ শনিবার ঘটনাটি হওয়ার সাথে সাথে রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তার পর পরই সেখান থেকে মহিলা ও শিশু রোগীদেরকে পাশে পুরুষ ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়।
জানা যায় হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের উপরে আরো একটি কক্ষ তৈরি করার কাজ চলছিলো। এই নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।
রাঙামাটি হাসপাতালে অপরিকল্পিত বাতি ভবন তৈরি করা বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছে রাঙামাটির সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) রাঙামাটির সহ-সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, হাসপাতালের ফাউন্ডেশন কত ও ধারণ ক্ষমতা কত তা যাচাই করে নতুন ভবন তৈরি করার প্রয়োজন ছিলো। এমন করে ফাটল দেখা গেলো তো রোগিরা আরো বেশি মানসিক চাপে থাকবে। তারা হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার জন্য এসে যদি দুর্ঘটনার শিকার হয় তবে হাসপাতালে আসার কি প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ৫০ শয্যার তৈরি করা হয়েছিলো যা পরবর্তী সময়ে ১০০ শয্যা করা হয়। রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ হয়েছে, দিনে দিনে রাঙামাটিতে জনগণ বাড়ছে। ঠিক তেমনি ভাবে রোগির চাপও দিনে দিনে আরো বেশি বাড়বে। তাই প্রয়োজনে হাসপাতালের পাশে যে খালি জায়গাগুলো রয়েছে সেখানে টিন সিট হাসপাতালের কক্ষ করা হোক কিন্তু এই ভাবে অপরিকল্পিত ভাবে একটির উপর একটি ভবন নির্মাণ করা ঠিক নয়। যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তাদেরকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবী জানান তিনি।
রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনিল কান্তি দে বলেন, ১৯৯৭ সালে বরকলে যখন একটি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিলো ঠিক তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূমি বিশেষজ্ঞ এসেছিলো তারা বিভিন্ন জরিপ করে বলেছিলো রাঙামাটিতে আরো বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে রাঙামাটি হাসপাতাল। তাদের সেই মন্তব্য প্রশাসন কানে নেন নি। যার ফলে আজ আমরা এর প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি। হাসপাতালটি এমনিতে ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে তার মধ্যে কোন প্রকার পরিকল্পনা বা পরিক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই এর উপরে আরো একটি ভবন তৈরি করা তা গ্রহন যোগ্য নয়। যারা দায়িত্বহীন ভাবে কাজ করেছে তাদের শাস্তি পাওয়া দরকার। তাই এই দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, রোগিদের সুস্থ করতে হবে না, আগে তাদের জীবন বাঁচাতে হবে। রোগিরা হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার জন্য এসে যদি জীবন হাঁরায়, তবে তারা হাসপাতালে আসবে কেনো?
মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্চিতা চাকমা বলেন, রোগিরা হাসপাতালে এসে যতটা না শারিরিক অসুস্থতা অনুভব করবে তার চেয়ে বেশি মানসিক অসুস্থতা অনুভব করবে। কখন না জানি কি হয়ে যায়? এই ভয় শুধু রোগি নয় রোগির সাথে আসা ব্যাক্তিও করবে। তিনিও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, যে ব্যাক্তিরা জন সাধারণের জীবন যাত্রার কথা চিন্তা না করে, দায়িত্বহীন ভাবে এই কাজটি করেছে তারা মানবাধিকার লঙ্গণের একটি পর্যায়ে অপরাধ করেছে। কোনো ব্যাক্তি অধিকার নেই অন্য কোনো ব্যাক্তির জীবনের এইভাবে দুর্ঘটনা মুখে ঢেলে দেওয়ার। তাই তিনি এই ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
