নিষ্ঠুরতম এক সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’

0

নিজস্ব প্রতিনিধি :  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, মানব ইতিহাসে নিষ্ঠুরতম এক সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, সর্বোপরি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে ২৫মার্চ’র হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানানোর দায়বদ্ধতা সবার। এ লক্ষ্যে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত সঠিক এবং সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

শনিবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম টিআইসি মিলনায়তনে স্বাধীনতা মেলা পরিষদ চট্টগ্রাম আয়োজিত ২৫ মার্চ কালো রাত্রি এবং জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের স্বাধীনতার পূর্ব রাত এই ২৫ মার্চ। এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এক ভয়াল নিষ্ঠুরতার স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত। এর পর পরই ঘোষিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।

পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ’৭১-এর ২৫ মার্চে পরিকল্পিত পন্থায় নেমেছিল বাঙালি হত্যার মহোৎসবে, নেমেছিল রক্তের স্রোতে বাঙালির সব স্বপ্নকে ভাসিয়ে দিতে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাঙালির জীবন উৎসর্গ করার ঐতিহাসিক ঘটনার পথ ধরে- এ দেশের মানুষকে পাড়ি দিতে হয় অনেক পথ। এই পথের ধারাবাহিকতায় আসে ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণভ্যুত্থান এবং এসবেরই ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু নির্বাচনের এই রায় দেখে চমকে যায পাকিস্তানের কায়েমি স্বার্থবাদী স্বৈর-সামরিক চক্র। দেশের মানুষ ভোট দিয়েছিল ছয় দফার পক্ষে। সেই ছয় দফা পরিণত হয় এক দফায়। শুরু হয় এক অভূতপূর্ব আন্দোলন, অহিংস অসহযোগ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্সে (সোহরোয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল জনসমুদ্রে দিলেন এক ঐতিহাসিক ভাষণ। সংগ্রামের পূর্বাপর ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে তাঁর ওই ভাষণে ঘোষনা করলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিলেন তিনি, নির্দেশ দেন শত্রুর মোকাবেলা করার। চলতে থাকে নানা চক্রান্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন এবং সুকৌশলে আলোচনার নামে সৈন্য ও সমরাস্ত্র আনা শুরু করেন। এভাবে সুকৌশলে শুরু হয় কালক্ষেপণ। তারপর এক পর্যায়ে আসে ২৫ মার্চ। এই ২৫ মার্চের রাতে সশস্ত্র পাকিস্তানী বাহিনী হায়েনার মতো নেমে পড়ে গণহত্যায়। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাসভবন এবং ছাত্রদেরহ ল, রাজারবাগ পুলিশের হেডকোয়ার্টার, ইপিআর সদর দফতর, বিভিন্ন স্টেশন ও টার্মিনালে আক্রমণ চালানো হয়। ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালি হত্যার উৎসব শুরু হয় ওই রাতে।

এখন প্রয়োজন ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা এবং গণহত্যাকারীদের প্রকৃত পরিচয় জানা। ২৫ মার্চের গণহত্যাকারী ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মেলা পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান সফর আলী, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ উমর ফারুক, সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

উপস্থিত ছিলেন মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান নঈমুদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, পাঠানটুলী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসিফ খান, শিক্ষাবিদ মাহমুদ আবদুর রহিম চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পংকজ দেবনাথ, নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আয়েজ উদ্দিন প্রমুখ। আলোচনা সভাশেষে বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ কালো রাতে যাঁরা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.