সিটিনিউজবিডি : .ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি নেতা, আপনি শুধু বক্তব্য দেবেন, অন্যরা শুনে যাবে সেটা রাজনীতি নয়। যুবলীগে শোনাউল্লাহ, বলাউল্লাহ আর বখাউল্লাহর দরকার নেই। যুুবলীগের দরকার করাউল্লাহ অর্থাৎ যে করতে পারবেন।’ যুবলীগে তোষামোদকারী, পদলেহনকারী নেতার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো.ওমর ফারুক চৌধুরী।
সোমবার (১৩ জুলাই) জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত নগর যুবলীগের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি বলেন, রাজনীতিতে আত্মমর্যাদাহীন, তোষামোদকারী, পদলেহনকারী নেতারা দলের কোন উপকারে আসেনা। যুবলীগে কোন তোষামোদকারী-পদলেহনকারীর দরকার নেই।
তিনি নগর যুবলীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নেতৃত্ব দিতে চান, কিন্তু কেমন নেতা হবেন সেটা ঠিক করতে হবে আপনাকেই। আপনি কি পদলেহনকারী, তোষামোদকারী হবেন? আপনি কি নেতার বাড়ি গিয়ে প্রতিদিন বাজার করে দিতে চান? তাহলে দরকার নেই।
‘পরিবর্তনটা আপনার ভেতরেই আসতে হবে। কেউ কাউকে পরিবর্তন করে দিতে পারেনা। নেতা হতে হলে বড় চিন্তা করতে হবে।’ বলেন ওমর ফারুক।
যুবলীগের লক্ষ্য কি হওয়া উচিৎ সেটাও বাতলে দেন চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দল করতে হলে কর্মসূচী রাখতে হবে। সেই কর্মসূচী কি? অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করা নাকি বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিদিন গালি দেয়া?
‘যুবলীগকে সমন্বয় ঘটানোর কাজ করতে হবে। নেতা আর কর্মী, আওয়ামী লীগ আর যুবলীগের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।’ এভাবেই যুবলীগের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন ওমর ফারুক।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বিবদমান নেতাদের এক মঞ্চে আনায় নগর যুবলীগের প্রশংসাও করেন ওমর ফারুক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেটা পারেনি সেটা যুবলীগ পেরেছে। সব নেতৃবৃন্দকে এক মঞ্চে আনতে পেরেছে।
‘উকুন বাছার রাজনীতির দরকার নেই। উকুন বাছার নেতৃত্ব ছেড়ে দেন।’ দলাদলিতে না জড়ানোর জন্য যুবলীগের নেতাকর্মীদের এভাবে সতর্ক করেন ওমর ফারুক।
ওমর ফারুক যখন এমন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন মঞ্চে ছিলেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং তার বিরোধী হিসেবে পরিচিত সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। মঞ্চে বসে তাদের হাস্যোজ্জ্বলভাবে আলাপ করতে দেখা গেছে।
তবে ব্যানারে বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম থাকলেও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সভায় উপস্থিত হননি।
সাম্প্রতিক সময়ে নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া ফরিদ মাহমুদকেও ইফতার মাহফিলে দেখা গেছে। মঞ্চে না উঠলেও তাকে সভায় আসা নেতাকর্মীদের সামলাতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিলবোর্ড উচ্ছেদের সময় গণমাধ্যমে লাইসেন্সধারী পিস্তল প্রদর্শনের খবর আসার পর ফরিদ মাহমুদকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ।
নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো.মহিউদ্দিন বাচ্চুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনসহ যুবলীগের নেতৃৃবৃন্দ।
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মঞ্চে থাকলেও সময় স্বল্পতায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি।
নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুরু থেকে সুশৃঙ্খল থাকলেও ইফতারের সময় কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এসময় অনুষ্ঠানস্থলের পেছনদিকে কাঁচের গ্লাস-প্লেট ভাঙার শব্দ শোনা যায়। ইফতার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কয়েক’শ নেতাকর্মী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
