নিজস্ব প্রতিবেদক::চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর এর সক্ষমতা ৯৮ তম স্থান থেকে উত্তোরন ঘটিয়ে বর্তমানে ৭৬ তম স্থানে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে শ্রমিক কর্মচারীদের ভূমিকাই মূখ্য।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকালে নগরীর নিমতলা বিমান চত্বরে ডক শ্রমিক, মার্চেন্টস শ্রমিক, ষ্টীভিডোরিং স্টাফ, অপারেটর শ্রমিকদের সম্মিলিত সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগ এর বিশাল সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির ভাষনে মেয়র এ সব কথা বলেন।
মেয়র শ্রমিকদের ঐক্য প্রত্যাশা করে বলেন, ন্যায়সঙ্গত দাবী বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের ঐক্য প্রয়োজন। মামলা, মোকদ্দমা বা আন্দোলন-সংগ্রাম মূখ্য বিষয় নয়। শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ থাকলে সকল অধিকার আদায় করা সম্ভব।
জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলে দেশও সচল থাকবে। যাদের দেশপ্রেম আছে, তারা নিজেদের ক্ষতি করতে পারে না। একটি স্বার্থন্বেষী মহল কতিপয় শ্রমিক-কর্মচারীকে পূজিঁ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত। তারা চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ও সুখ্যাতি এবং দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ ধরনের দেশপ্রেম বিবর্জিত কাজে যারা লিপ্ত তাদের বিষয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, নেতৃত্বকে ব্যক্তির স্বার্থে নয়, শ্রমিকশ্রেণী, দেশ ও জাতির স্বার্থে নিয়োজিত রাখতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, ‘বন্দর শ্রমিকদের ব্যবহার করে ভাগ্য পরিবর্তনের কোন অভিলাষ অতিতে আমার ছিল না, বর্তমানে নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থানে আছি। আমার সবকিছুর পেছনে জাতির জনকের কন্যা, বাংলার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। যতদিন বেঁচে থাকব দেশ ও আদর্শের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে যাব’। যারা নিজেদের স্বার্থে সরকার, দেশ ও দলের স্বার্থ বিসর্জন দেয় তাদের চরিত্র সম্পর্কে আমাদের সকলকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি শ্রমিক নেতৃত্বে আসিনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগ রেজি নং ২৭৪৭-কে শ্রম শাখায় সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বাধ্য হবে।
মেয়র বলেন, ডক শ্রমিক, মার্চেন্টস শ্রমিক, ষ্টীভিডোরিং স্টাফ, ল্যাসিং-আনল্যাসিং শ্রমিক ও উন্সম্যান বা ক্রেন অপারেটর শ্রমিকদের সম্মিলিত এ সংগঠনের পাশে থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
সাধারণ সভাটি বিশাল শ্রমিক সমাবেশে রূপ লাভ করে। সংগঠনের সভাপতি মো. মীর নওশাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, জাতীয় শ্রমিক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন খান, অত্র সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর। সিবিএ’র যুগ্ম সম্পাদক আবু বক্কর চৌধুরী ও হাজী মো. নাসির এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কার্যকরী সভাপতি মো. কামাল, সিনিয়র সহ সভাপতি নুরুল আবছার, নুরুল আমিন ভূইয়া, মো. দুলাল মিয়া, হাজী আইয়ুব দোভাষ, সহ সভাপতি আবদুল গফুর, হুমায়ুন কবির, জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস, শহীদুল্লাহ, আমিনুল ইসলাম, সহ সম্পাদক আল বাতেন, জানে আলম, ইলিয়াছ আলম, নুর করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরী, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আলমাস উদ্দিন, মো. নাছির, অর্থ সম্পাদক আলী আকবর, দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিম, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শ্রম ও সদস্য কল্যান সম্পাদক মো. জাহেদ, যুগ্ম শ্রম ও সদস্য কল্যান সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. লোকমান, শাহ আলম, আবুল কাসেম, আবদুল মতিন, দিদারুল আলম ও আবুল হোসেন।
