চট্টগ্রাম মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগের একাত্মতা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক::চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজে অতিরিক্ত ফি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তা সমাধানের জন্য স্মারকলিপি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জনাব সামশুল আরেফিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা) জনাব হাবিবুর রহমানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের দ্রুত সমাধানের দাবী জানান।

এদিকে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগের সাথে একাত্মতা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারন সম্পাদক নূরুল আজিম রনি এ সংক্রান্তে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরকারী প্রকল্পের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের ম্যানিজিং বোর্ডের সভাপতি সম্মানিত বিভাগীয় কমিশনার ও সদস্য হিসাবে আছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান।কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকবৃন্দের সেচ্ছাচারিতা ও অনিযমের কারনে স্বাভাবিক সুস্থ পাঠদান কর্মসূচী ব্যাহত হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ পেয়ে তাদের পরামর্শ দিয়েছিলাম বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এর নজরে আনার জন্য।যার অংশ হিসাবে তারা আজ জেলা প্রশাসক ও মাননীয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা) বরাবরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নির্যাতিত ছাত্র সমাজের পক্ষে কথা বলি। সুতরাং মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ন্যায়সঙ্গত সকল দাবীর প্রতি আমরা একাত্মতা পোষন করছি।আমরা শিক্ষাবোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে অভিযোগ সমূহ উত্তাপন করেছি।আশা রাখি অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল অনিয়ম সমাধান করে বিদ্যানন্দনী শেখ হাসিনার শিক্ষাসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে মাননীয় জেলা প্রশাসক ও অতি জেলা প্রশাসক(শিক্ষা)বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আকস্মিক ভাবে অত্র প্রতিষ্ঠানের মাসিক বেতন ১৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। যা অতীতে ৫০০ টাকা মাসিক বেতন হিসাবে নির্ধারিত ছিল।এছাডাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ৩ মাসের বেতন অগ্রিম প্রদানের জন্য নানাভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করছে এবং ৬ এপ্রিল থেকে এইচ,এস,সি প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে রাখা হয়েছে।শিক্ষকগন আলাদা কোচিং করার জন্য শিক্ষার্থীদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খাবার পানির চরম সংকট ও কেন্টিনের দাবী স্মারকলিপিতে সংযুক্ত করা হয়।এছাড়াও সরকারী অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত অত্র প্রতিষ্ঠানে জিমনিসিয়াম ও লাইব্রেরি থাকলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে|

স্মারকলিপিতে অভিযোগ হিসাবে বলা হয়েছে,প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংকটের সময় যেন শিক্ষাপাঠ ব্যাহত না হয় তার জন্য সরকার জেনারেটর উপহার দিয়েছিল কিন্তু তা ব্যবহার করা হয়না।সর্বাপোরি নানামুখী সংকটের কথাগুলো প্রতিষ্ঠানের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অভিযোগ করেও সুরাহা না পেয়ে উল্টো নানারকম হুমকি পেয়ে আসছিল তারা।পরবর্তীতে বিভিন্ন দাবী দাওয়া ও অভিযোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,চট্টগ্রাম মহানগরের সাহায্য প্রার্থনা করলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগরের নেতৃবৃন্দের পরামর্শে অভিযোগ সমূহ স্মারকলিপি আকারে আজ তুলে ধরা হয়।স্মারকলিপি প্রদানকালে নগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নূরুল আজিম রনি উপস্থিত থেকে চিটাগাং মডেল কলেজের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম রিয়াজ,মাইনুল ইসলাম সানি,মো: আবিদ,মো:গালিব, মো:ফয়সাল,রাখিব,মো:সাহিদুর রহমান,রিদয় হাসান,আফরাজ, কামরুল ইসলাম, মো: আসরাফুল স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.