বিশেষ প্রতিবেদক::রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী পুলিশ চেক পোষ্ট সংলগ্ন কাস্টমস এন্ড ভ্যাটের ১০০ শতক (০১ একর) জায়গা রয়েছে। যা এতদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভোগ দখলে ছিলো বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। সেই জায়গা সোমবার সকালে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সীমানা নির্ধারণে কাস্টমস’র সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও মোস্তফা কাউসার সহ রাঙামাটি ভূমি অফিসের কানংগু জ্যাগদিশ চাকমা, সারভেয়ার রিপন চাকমা, চেনম্যান মফিজুর ইসলাম, বলভদ্র এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় রাঙামাটি কোতয়ালী থানার এসআই সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটিতে এই কাস্টমস দীর্ঘ দিন পূর্বে কামকান্ড পরিচালনা করার পরে তারা এই স্থান থেকে চলে যায় কিন্তু তাদের সেই সম্পত্তি রয়ে যায় আজ দীর্ঘ দিন যাবত। পরে সেখানে অবস্থান করা পুলিশ ফাঁড়িটি কাস্টমসের সেই জায়গায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
গত বছরে আবারো কাস্টমস এই স্থানে পূর্ণরায় কাজ শুরু করার কথা জানা যায়। তার পরেই সেখানে কাস্টমস নিজেদের তৈরি করা দালানটি দখলে নেয় এবং নিজস্ব অফিস তৈরি করে। তাদের অফিসের পাশেই এখনো কর্মরত রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
পরবর্তীতে কাস্টমস’র জায়গা দখল ও তাদের সীমানা প্রাচির তৈরি করার কথা থাকলে তা টেন্ডার দেওয়া হয়। তারই পরিপেক্ষিতে সীমানা প্রাচির তৈরি করার লক্ষে তাদের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সীমানার মধ্যে আব্দুল গফুরের দোকান ও ঘর, আব্দুল আলিমের টিনের ঘর, সাইফুল ইসলামের টিনের ঘর, সেলিম’র টিনের ঘর, কিষ্ট বাবুর টিনের ঘর, কালাম’র ঘরের চালের সামনের একাংশ, শাহ নেওয়াজ ও কাউছার আলীর ঘর এবং দোকান, রাঙামাটি নির্মাণ শ্রমিক সমবায় সমিতির তৈরি করা দোকানগুলোর মধ্যে একটি দোকানের অধেক অংশ কাস্টমস জায়গায় অবৈধ ভাবে নির্মাণ করেছে বলে ভূমি নির্ধারণের সময় জানা যায়।
উক্ত জায়গা রদবদল সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, বর্তমানে বসবাসরত আব্দুল গফুর, সাইফুল, সেলিম, শাহ নেওয়াজ, কাউছার, নির্মাণ শ্রমিক সমিতির জায়গা সর্ব্ব প্রথম কালাম ড্রাইভারের ছিলো। তিনি এই জায়গা পর্যায় ক্রমে দখল করে বিক্রয় করেছে। এছাড়া এই জায়গা গুলো কালাম ড্রাইভারের হাত হতে একের পর এক হাত রদবদল হয়ে বর্তমানে যারা বসবাস করছে তাদের হয়েছে। এই কালাম ড্রাইভার রাজনৈতিক দলের নেতা বলেও জানা যায়। যার পরিপেক্ষিতে তিনি এই জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে নিজে বসবাস করছে এবং অন্য অনেক রাজনৈতিক দলেও মানুষকে সাথে নিয়ে এই জায়গাগুলো অবৈধ ভাবে বিক্রয় করেন।
সীমানা প্রাচিনের ঠিকাদার মো: এয়ার রসূল বলেন, আমরা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করবো বলে আশা প্রকাশ করি। এই সীমানা প্রচিরে জন্য ৬০ লক্ষ টাকা বাজেট হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে কাস্টমস’র সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা ভূমি অফিসের সহযোগিতায় সীমানা নির্ধারণ করেছি। এই প্রতিবেদন অফিসে জমা দিবো তার পরবর্তীতে অফিস নির্ধারণ করবে কি হবে।
উল্লেখ্য, কাস্টমস ১৯৭৯ সনে এক একর জায়গা কাস্টমস এখোয়ার করে পরে তারা ১৯৮১ সাল পর্যন্ত নিজেস্ব কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এরপরে ১৯৮১ সনে কাস্টমস নিজেদের কর্মকান্ড বন্ধ করে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশ কাস্টমস’র ফেলে রাখা জায়গা আবেদন জানিয়ে পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করেন অত্র এলাকার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা জন্য। এরপরে এই কাস্টমস’র জায়গা বিভিন্ন ভাবে অবৈধ দখল হতে থাকে। এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার জন্য দীর্ঘদিন আগে একটি নোর্টিশ জারি করা হয়েছিলো বলেও জানা যায়। পুলিশ ফাঁড়িটি ইতিমধ্যে শিমুলতলী নিয়ে যাওয়ার কথা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
