ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা মঙ্গলবার

0

নিজস্ব প্রতিবেদক::বছর ঘুরে আবার এসেছে চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের উৎসব আব্দুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা। এটি চাঁটগাঁবাসীর কাছে জব্বারের বলী খেলা নামেই পরিচিত।

সোমবার থেকে নগরীর লালদীঘি ঘিরে শুরু হয়েছে তিন দিনের মেলা। চলবে বুধবার পর্যন্ত। বলী খেলা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। এবার হবে জব্বারের বলী খেলার ১০৮তম আসর। বলী খেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত বছর ৮০ জনের মত বলী অংশ নিয়েছিলেন। এবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বলী অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

আব্দুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, জব্বারের বলী খেলা এবং এ উপলক্ষে যে বৈশাখী মেলা হয়- তা চট্টগ্রামের শত বছরের ঐতিহ্য। এ মেলা চট্টগ্রাম নগরবাসীর প্রাণের সাথে মিশে গেছে। এই মেলায় পাওয়া যায় ঘরের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র। গৃহিণীরা সারা বছর এ মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। চট্টগ্রাম ছাড়াও সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা, ফেনী, নোয়াখালী, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ মেলায় নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসেন। আর এবার বলীর সংখ্যাও গতবারের মত হবে বলে আশা করছি।’

১৯০৯ সালে নগরের বকশির হাট এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। সেই থেকে প্রতি বছর বঙ্গাব্দের ১২ বৈশাখ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রবিবার থেকেই মেলার দোকানপাট বসতে শুরু করেছে। বৃষ্টির মধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান গুছিয়ে নিচ্ছেন।

আন্দরকিল্লা মোড় থেকে কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত এবং জেল রোড, কে সি দে রোডজুড়ে নানা রকম বাহারী পণ্যের পসারা সাজাতে ইতিমধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন দোকানীরা। মাঝে মাঝে দু’এক পশলা বৃষ্টি হলেও উৎসাহ হারাচ্ছেন না কেউ। কে সি দে মোড়ে বগুড়া থেকে আসা খেলনা ব্যবসায়ী কলিম উল্লা জানান- ‘আমরা প্রতি বছর চট্টগ্রামের এই মেলায় যোগ দিই। এখানে বিক্রি বেশ ভালো- লাভও হয়। এবারও বেচাবিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছি।’

সড়কের পাশে জেল গেটের সামনে বসে মাটির টব সাজাচ্ছিলেন তরুণ সুবোধ পাল। সাভার থেকে আসা এ ক্ষুদে মৃৎশিল্পী জানান তিনি তিন বছর ধরে এ মেলায় আসছেন। তার বাবা অমর কৃষ্ণ পাল প্রায় এক যুগ ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। সুবোধ জানালো, গত ছয় মাস ধরে তারা এ মেলায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার বিক্রি কেমন প্রত্যাশা করছো? এ প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়- প্রতি বছর ভালো বিক্রি হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.