চট্রগ্রামের এম এ গনি মুক্তিযুদ্ধের সেরা সংগঠক স্বর্ণপদক পাচ্ছেন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি ::   চট্টগ্রামের গৌরব বরণ্য রাজনীতিবিদ এম এ গনি পাচ্ছেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সেরা সংগঠক ক্যাটাগরিতে বিবার্তা স্বর্নপদক। দেশীয় কিংবা প্রবাসী নেতা এমএ গনি নিজের জীবনের দুই তৃতীয়াংশ সময় আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু মুজিব এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিলেন ।

দলের বিশ্বস্ত এই লড়াকু সৈনিক এখন সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী মঙ্গলবার ২ মে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে বিবার্তা গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে উল্লেখিত স্বর্নপদক প্রদান করা হবে ।

এমএ গনির জন্ম চট্রগ্রাম শহরের আসাদগঞ্জে জমিদার পরিবারে। তার বাবা কোলকাতায় সুলতানিয়া পারফিউমারি ওয়ার্ক্সের মালিক ছিলেন। সেই সুবাদে কলকাতায় কেটেছে তাঁর শৈশব। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুলে। কিন্তু সেখানে বেশিদিন পড়া হয়নি তার। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন নটরডেমে। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমের কারণে সেখানেও বেশিদিন থাকা হয়নি তার।

১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বপ্রথম কমিটির সভাপতি মরহুম জানে আলম দোভাষ এবং সাধারণ সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরীর সাথে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন এমএ গনি।

১৯৬৫ সালে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে মুসলিম লীগের শক্তিশালী প্রার্থীকে হারিয়ে এমএ গনি অল্প বয়সে বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হয়েছিলেন। একই সালে নিখিল পাকিস্তান যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। খুব অল্প বয়সে চট্টগ্রাম এর সেই সময়ের ১০০ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ ব্যাংকের পরিচালক হন।

চট্টগ্রামে মহাপ্রতাপশালী সেনাশসক আইয়ুব খানকে জুতা মেরে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এমএ গণি। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। এক সময় সাজেদা চৌধুরী পরম স্নেহে তাকে লন্ডন চলে যেতে সাহায্য করেছিলেন।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রচারের জন্য শেরেবাংলা এক ফজলুল হক, শহীদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানীর সাথে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম গেলে এমএ গনির সর্বপ্রথম পরিচয় ঘটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

পাকিস্তানি শাসকদের ইঙ্গিতে পুলিশের নির্মম নির্যাতনে গুরুতর আহত হওয়ার চিকিৎসার জন্য ১৯৬৯ সালে লন্ডন আসলে সুস্থ হওয়ার পর লন্ডনের বিখ্যাত হ্যারো কলেজ থেকে ব্যবসা প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। বাংলাদেশে হুলিয়া থাকার কারণে দেশে না গিয়ে ইংল্যান্ডে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনে কাজ করার জন্য নির্দেশ পেয়েছিলেন। বার্মিংহাম থেকে বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের অ্যাকশ্যান কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন।

১৯৭৮ সালে কিছুদিন আমেরিকার তেল কোম্পানির ম্যানেজার হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গেলেও সেখানে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজ করেছেন নিরলসভাবে। পরে একসময় দায়িত্ব পালন করেন ইউকে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির।

বয়স হলেও এমএ গনি মানসিকভাবে প্রাণবন্ত তরুণ। এই জন্য এখনো ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত থেকে ছুটে বেড়ান আওয়ামী লীগ কর্মীদের শক্তিশালী ও উজ্জীবিত করতে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.