কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনলেন আপের বরখাস্ত পানিমন্ত্রী কপিল মিশ্র।

আম আদমি পার্টির কোন্দল আরও প্রকাশ্যে আসলো। বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন তো বটেই, সেই সঙ্গে আপ নেতাদের কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন কপিল। আজ রবিবার রাজঘাটে সংবাদমাধ্যমের সামনে কপিল বলেন, গত পরশু অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নগদ দুই কোটি রুপি দিযেছেন স্বাস্থ্য ও পূর্তমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন।

কপিলের দাবি, বিশাল অংকের ওই অর্থ দেওয়ার পর তিনি প্রশ্ন করেছিলেন কেজরিওয়ালকে।  কিন্তু কেজরিওয়াল কোন উত্তর দেননি।

কপিল বলেন, কেজরিওয়াল তাকে বলেছিল, ‘রাজনীতিতে এমন জিনিস হয়েই থাকে, এ বিষয়ে পরেও আলোচনা করা যাবে।’

এই ঘটনা দেখার পর সারা রাত ঘুমাতে পারেননি বলেও দাবি করেন কপিল। অর্থ লেকদেনের বিষয়টি তিনি দিল্লির দুর্নীতি দমন শাখায় জানিয়েছেন।  পাশাপাশি, কেন তাকে দল থেকে বরখাস্ত করা হল, সে  প্রশ্নও তুলেছেন বিদ্রোহী আপ নেতা।

কপিলের বলেন, ‘নিজের চোখে এমন ঘটনা দেখার পর কি চুপ করে থাকা যায়! অন্তত আমি পারব না।’

এর ফলে যদি রাজনৈতিক পদমর্যাদা হারাতে হয়, তাতেও দ্বিধা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। কপিলের দাবি, দিল্লিতে তিনিই একমাত্র মন্ত্রী যার বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারির কোনও অভিযোগ নেই। দিল্লির পূর্তমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, তার বিরুদ্ধে তো কালোটাকা ও তছরুপের তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। যে দিন সত্যেন্দ্র জেলে যাবেন, সে দিন প্রমাণ হবে আমি সত্যি বলেছিলাম কিনা। আর কয়েকটা দিন শুধু অপেক্ষা করুন।

তবে কপিলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া। কপিলের বরখাস্ত প্রসঙ্গে সিসৌদিয়া জানান, পানি সরবরাহ ও বিলে গড়মিল ধরা পড়ার ফলেই মিশ্রকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল কপিল মিশ্রকে পর্যটন ও পানি মন্ত্রণালয়ের পদ থেকে বরখাস্ত করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সরিয়ে দেওয়া হয় পানিবোর্ডের সভাপতির পদ থেকেও।

কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরেই সরব হয় কংগ্রেস-বিজেপি। তারা একযোগে কেজরিওয়ালের পদত্যাগের দাবি করেছে। দিল্লি বিজেপির সভাপতি মনোজ তিওয়ারি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার কোনও অধিকার নেই তার। এখনই পদত্যাগ করা উচিত।

অন্য দিকে কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন বলেন, কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে এখনই কেন্দ্র, দুর্নীতি দমন শাখা এবং সিবিআইয়ের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.