মানুষের জীবনে স্মরণীয় ঘটনা রোজ রোজ আসে না

0

সিটিনিউজবিডি:- মানুষের জীবনে স্মরণীয় ঘটনা রোজ রোজ আসে না। যদি বা আসে, তাকে আজীবন বেঁধে রাখলে দোষ কী? তখন বারবার ফিরে যাওয়া যায় সেই সুখানুভূতির কাছে! জোবায়ের হোসেন ঠিক এই কাজটিই করেন। পরিবার ও কাছের মানুষের কাছে শুভ নামেই বেশি পরিচিত তিনি। তাঁর কাজ মানুষের জীবনের স্মরণীয় ঘটনাকে ফ্রেমবন্দী করে রাখা। কারও আনন্দের মুহূর্তকে ফ্রেমে আটকে রাখা নিশ্চয় সমান আনন্দদায়ক ব্যাপার। কী বলেন জোবায়ের? জোবায়ের তাঁর ভ্রুকুঞ্জিত হাসি ধরে রেখেই বলতে শুরু করেন, ‘শখের কাজ করতে পারলে কার না আনন্দ লাগে বলেন? ছবি তোলা আমার ছোটবেলার শখ।’
সেই শখের হাত ধরে এসেছে স্বীকৃতি। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে জোবায়ের অর্জন করেছেন ওয়েডিং অ্যান্ড পোট্রে৴ট ফটোগ্রাফারস অব এশিয়া (ডব্লিউপিপিএ) পুরস্কার। মালয়েশিয়ার ডব্লিউপিপিএ অর্গানাইজেশন ২০১৫ সালে এশিয়ার নয়জনকে এই সম্মাননা দেয়, যার মধ্যে জোবায়ের ছাড়াও চীন, কোরিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের আলোকচিত্রীরাও রয়েছেন।
এই অর্জনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন জোবায়ের। উদাস গলায় একটু একটু করে বলতে থাকেন তাঁর ক্যামেরার কবি হয়ে ওঠার গল্প। শুরুতে তাঁর কোনো ভালো ক্যামেরা ছিল না। ছোট ক্যামেরা আর মুঠোফোনের ক্যামেরাতেই শখ মেটাতেন। পরে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে কিনে ফেলেন একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা। সেই ক্যামেরায় তোলা ছবি একসময় নজর কাড়ে বন্ধুদের। তখনই তিনি স্বপ্ন দেখা শুরু করেন নিজেকে একজন বিশ্বমানের আলোকচিত্রী হিসেবে গড়ে তোলার।
জোবায়ের লেখাপড়া করেছেন গাজীপুরের ইসলামিক ইনস্টিটিউট আব টেকনোলজি (আইইউটি)-তে। তার আগে পড়েছেন কুমিল্লা জিলা স্কুল ও ঢাকার নটর ডেম কলেজে। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি—দুটোতেই পেয়েছেন জিপিএ-৫।
সুতরাং মেধাবী হিসেবে ছোটবেলা থেকেই জোবায়েরের একটা পরিচিতি আছে। তাই কাছের মানুষেরা ভাবেন জোবায়ের হয়তো আইইউটির প্রকৌশলবিদ্যা শেষে প্রকৌশলী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। কিন্তু প্রতিভাবানেরা সব সময় ভাবেন প্রচলিত ধারণার বাইরে। তিনি ভাবলেন, নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করবেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে।
জোবায়েরের সেই ভাবনা জলে ভেসে যায়নি। প্রথম দিকে কাছের কজন বন্ধু ইমরান শাহেদ, নাফিস ফুয়াদ ও রাফিকে নিয়ে শুরু করেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফি-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম ওয়েভার’। এখন তার এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় অর্ধশত কর্মচারী। সম্প্রতি ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেও খুলেছেন এর একটি শাখা। অতিসত্বর চালু করতে যাচ্ছেন এই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ইয়ুথ একাডেমি।
ভিন্নধর্মী এই পেশায় এসে ভালো লাগার কথা জানালেন জোবায়ের। ‘বিয়ের মতো সারা জীবনের সুন্দর আয়োজনটি যখন কেউ আমাদের ফ্রেমবন্দী করার সুযোগ দেন, সে অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ,’ বলেন তিনি।
শুরুটা এতটা সহজও ছিল না জোবায়েরর জন্য। প্রকৌশলী হয়েও পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিকে বেছে নেওয়ার চর্চা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিজের স্বপ্ন থেকে তিনি সরে দাঁড়াননি। তাঁর মতে, ‘তরুণদের চাকরির পিছে না ঘুরে বরং উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। যার যা ভালো লাগে, সেটা নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিত।’ কে জানে সেই ভালো লাগার কাজটিই হয়তো-বা একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে দেখা দেবে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে আলোকচিত্রে বাংলাদেশকে বিশ্ব আসনে আরও বড়ভাবে উপস্থাপনের স্বপ্ন দেখেন এই নবীন উদ্যোক্তা, তরুণ আলোকচিত্রী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.