বিলাইছড়িতে পাহাড় কেটে ঘর, বাড়ছে ধ্বসের ঝুঁকি

0

সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি::রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খাড়া পাহাড় জায়গা কেটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আপত্তি উঠেছে।

২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কান্দারাছড়া নামক এলাকায় এর বাস্তব চিত্র দেখা মিলেছে। সেখানে উঁচু পাহাড়ি ঢালু জায়গার পাহাড় কেটে দীর্ঘদিন আগ থেকে এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ হতে চলছে। যা এখনও পর্যন্ত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের দৃষ্টির অগোচরে রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এখানে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ঘর বা স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অনেকে ওই খাড়া জায়গায় ঘর বাঁধার জন্য জমি ক্রয় করে নিয়েছেন।
অভিজ্ঞ মহলের পরামর্শ হলো ওই খাড়া জায়গায় পাহাড় না কেটে গাছের তক্তা বা কাঠ দিয়ে মাচাং ঘরের মত বাসযোগ্য ঘর নির্মাণ করা যায়। সে ক্ষেত্রে মাটি বা পাহাড় কাটার প্রয়োজন পড়ে না। পাহাড় কেটে মাটি ধসে মৃত্তিকা সম্পদ ধ্বংস হওয়া ছাড়াও ভবিষ্যতে ঘনবসতি হতে থাকলে একজনের কাটা খাড়া পাহাড় ধসে গেলে তার খাড়ার উপরের অংশে বসতি পরিবারের ভূমির অংশ ধসে যাওয়ায় তার বসত বাড়ির ওপর আঘাত আসবে। সেক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা।
তবে শুধু কান্দারাছড়ায় নয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কার্বারি রূপ কুমার তালুকদার বলেন, এ ধরনের পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ পরিবেশের ক্ষতিকারক। যা মাটির অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যায়। যার ফলে মাটি ধস অবধারিত। তাই পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ উচিত নয়।
২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অমর জীব চাকমা বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই ইউনিয়নের সকলকে পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসবাসকারীদেরকে স্থাপনা স্থানান্তরের জন্যও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুভমঙ্গল চাকমা বলেন, পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ বা কোন কারণে পাহাড় কাটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। যারা পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করছেন তা তাদের মোটেই উচিত নয়। কারণ সেটা পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিও বটে। যারা এসব পাহাড় কাটছেন তাদের বাধা দিতে হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.