সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারতেন ডেল স্টেইন।

0

সিটিনিউজবিডি:- দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারতেন ডেল স্টেইন। আসতে পারতেন মরনে মরকেল বা ভারনন ফিল্যান্ডারদের কেউ। কিন্তু এলেন কিনা দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ কার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট!
বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কাল সারা দিনে দক্ষিণ আফ্রিকান বোলিংটা যে রকম হলো, তাতে সংবাদ সম্মেলনে আসার দাবি আসলে কোনো বোলারই জানাতে পারে না। এর চেয়ে ল্যাঙ্গেভেল্টই দলের যোগ্যতম প্রতিনিধি ছিলেন। বোলারদের সাফল্য-ব্যর্থতার কারণটা যে তাঁরই ভালো বলতে পারার কথা!
সংবাদ সম্মেলনে বোলিং কোচ অনুমিতভাবেই ঢাল হলেন শিষ্যদের। স্টেইন-ফিল্যান্ডারদের ব্যর্থ না বলে বললেন ‘দুর্ভাগা’, ‘তাদের ওপর আমি সন্তুষ্ট। তারা বিশ্বমানের বোলার। নতুন বলে ব্যাটসম্যানদের আউট করতে না পারার ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্ভাগ্যও ছিল ওদের।’ ক্রিকেটে বোলারদের জন্য এ রকম দিন আসাটাকে স্বাভাবিক মনে করছেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। এমনকি চার স্পেলে ১৩ ওভার বল করেও যে স্টেইনের মতো বোলার উইকেট ছাড়া দিন পার করলেন, তাতেও হতাশ নন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৬টি টেস্ট আর ৭২টি ওয়ানডে খেলা সাবেক এই পেসার বরং আশাবাদী ভবিষ্যৎ নিয়ে, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে ফিরে আসতে জানে। সব সময় আরও ভালো কিছু নিয়েই ফিরে আসে ও।’
মূল বোলাররা না পারলেও দুই অনিয়মিত বোলার স্টিয়ান ফন জিল আর ডিন এলগারের হাতে বল তুলে দিয়ে সফল হয়েছেন অধিনায়ক হাশিম আমলা। সে জন্য বোলিং কোচের বাহবা পেয়েছেন দুজনই।
দক্ষিণ আফ্রিকা এমনিতে কোকাবুরা বলে খেলেই অভ্যস্ত। তবে বাংলাদেশে খেলতে হচ্ছে এসজি বল দিয়ে। এই বলে অনভ্যস্ততাকেও স্টেইন-মরকেলদের জ্বলে উঠতে না পারার একটা কারণ মনে করছেন অনেকে। যদিও ল্যাঙ্গেভেল্ট ভাবছেন অন্যভাবে, ‘এই সিরিজের পর আমরা ভারতেও যাব। কাজেই আমাদের এই বলে অভ্যস্ত হতেই হবে। আমাদের ছেলেরা কোকাবুরা বল দিয়ে খেলে অভ্যস্ত হলেও উপমহাদেশে খেলার কারণে আমরা এসজি বলেও অভ্যস্ত হয়ে গেছি। উপমহাদেশের জন্য এটাই আদর্শ বল।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের জন্য দিনটা কঠিন ছিল মানছেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। তাই বলে নিজের বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন না। কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরই, ‘আমাদের ছেলেরা ভালো বল করেছে, একই সঙ্গে ভালো ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশও। ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তারা।’ দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর কথা বলেছেন আলাদা করে, ‘মাহমুদউল্লাহ অসাধারণ খেলে গেছে। তামিমও ভালো ব্যাটিং করেছে।’ দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিক ও সাকিবকে নিয়ে দুশ্চিন্তাটাও প্রকাশ পেল এই কথায়, ‘উইকেটে এখন তাদের দুই সেরা ব্যাটসম্যান আছে।’
তবে আজ যেহেতু নতুন বল হাতে নেওয়ার সুযোগ আসছে, ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের অনুকূলে এসে যাবে বলেই বিশ্বাস বোলিং কোচের।
সেটা না হলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধ করা একটু কঠিনই হবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। চট্টগ্রাম টেস্ট আরও হেলে যাবে বাংলাদেশের দিকে। ল্যাঙ্গেভেল্টের তো এমনও আশঙ্কা, ‘তারা যদি ১০০ রানেরও লিড নেয়, আমরা বিপদে পড়ে যাব।’
বাংলাদেশ কি পারবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদে ফেলতে?

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.