বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে

0

ঢাকা অফিস :   বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের বিচার কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

রোববার দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে কোন বিচারপতি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এরকম খবর আমি বিশ্বাসই করি না।’

একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন এসেছে- কোনো এক বিচারপতির সঙ্গে সাকার পরিবারের সদস্যরা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গুজবের ওপর ভিত্তি করে কোনো রিপোর্ট হতে পারে না। এ ধরনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রধানবিচারপতির অফিস কোনো প্রতিবাদ পাঠাতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করাই এর লক্ষ্য, এটা কারো কাম্য নয়। এ ধরনের লেখা বিচারিক কাজকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। অনেক সময় ক্ষতি হয় শত্রুর দ্বারা, আবার অনেক সময় ক্ষতি হয় অতি উৎসাহী বন্ধুর দ্বারা। সাকার আপিলের মামলায় আসামিপক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষ লিখিতভাবে আদালতে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সাক্ষীদের সাক্ষের উপর ভিত্তি করে আদালত এ মামলায় রায় দিবেন।’

সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল হবার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলা নিয়ে কলাম লেখা উচিত নয়। তাতে জনগনকে বিভ্রান্ত করা হয়। আমি কোন দিনই বিশ্বাস করতে পারি না যে সাকার মামলার রায় নিয়ে এ ধরনের বৈঠক হতে পারে। আমি ৩০ বছর ধরে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের চিনি। তাদের সততা, দক্ষতা ও ন্যায় পরায়ণতা নিয়ে আমার ধারণা আছে, তারা সকলেই দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী। তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের বক্তব্য বিশ্বাস যোগ্য নয়।’

তাহলে কি এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় পত্রিকার বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি বলেন, ‘ব্যবস্থা নিতে হবে আমি এ রকম আশা করি না। সাকাকে ৪টি অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয়েছে এবং সে রায় সঠিক। আরো যে ৫টি অভিযোগে তাকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তার মধ্যে সাকার ২/৩ টিতে ফাঁসি হতে পারতো। যেহেতু আমরা সে সব বিষয়ে আপিল করি নাই। সেহেতু এ ধরনের আশা করি না।’

তিনি বলেন, ‘সাকার অপরাধের পরিমাণ এতো বেশি যে ট্রাইব্যুনাল তাকে যে সাজা দিয়েছে সেগুলো বহাল থাকবে।’

মুজাহিদের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অচিরেই মুজাহিদের রায় পাবো। দুই/তিন সপ্তাহের মধ্যে মুজাহিদের রায় প্রকাশ হতে পারে। এটা আমার অনুমান। যেহেতু এবার আপিলের রায় ঐক্য মতের ভিত্তিতে হয়েছে সেহেতু একজন বিচারক রায় লিখবেন।’

অন্য বিচারপতিদের এখানে ভিন্নমত পোষণ করে রায় দেয়ার সুযোগ নাই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এ আদালতের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি। আশা করছি আগামী ২/৩ সপ্তাহের মথ্যে মুজাহিরে রায় পাবো।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.