র‌্যাবের হাতে জলদস্যু প্রধান কালাম গ্রেফতার

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকাসহ কুখ্যাত জলদস্যু প্রধান কালাম বাহিনীর প্রধান কালাম (৫৫) ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।

বুধবার (৫ জুলা্ই) ভোরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে ধরা হয়। গ্রেফতারের পর দুর্ধর্ষ এই ত্রাস কালামের নানা অপকর্মের লোমহর্ষক কাহিনী বেরিয়ে আসছে।

র‌্যাব-৭ এর এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে ধরা হয়। র‌্যা‌বের দাবি উপকূলীয় এলাকা ও মেঘনা মোহনার ত্রাস এই কালাম বাহিনী। কালামের কাছ থেকে আটটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

এ নিয়ে বুধবার বিকালে র‌্যাব চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় জলদস্যু প্রধান কালাম বাহিনীর প্রধান কালামের নানা অপরাধের কাহিনী।

র‌্যাব জানায়,  বঙ্গোপসাগরের পূর্ব অংশের উপকূলীয় এলাকা অর্থ্যাৎ চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ভোলার উপকূলীয় এলাকা এবং মেঘনা নদীর মোহনায় যে কয়েকটি জলদস্যূ বাহিনী জেলেদের অপহরণ, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের মাধ্যমে এলাকায় রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে তার মধ্যে জলদস্যূ ‘কালাম বাহিনী’ সবচেয়ে সক্রিয় এবং দূর্ধর্ষ।

এ বাহিনীর প্রধান মোঃ আবুল কালাম কালাম চৌধুরী প্রকাশ কালাম ডাকাত (৫৫)। কালাম চৌধুরীর বর্তমান নিবাস ভোলার মনপুরায় হলেও তার বাহিনীর প্রায় ২০-২৫ জন জলদস্যূর তথ্য পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ভোলা ছাড়াও চট্টগ্রামের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও বাঁশখালীর অনেক জলদস্যু রয়েছে।

জলদস্যু কালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানা ও ভোলার মনপুরা থানায় ১১ টি মামলা রয়েছে যার মধ্যে ২ টি হত্যা, ৩ টি অস্ত্র, ৪ টি ডাকাতি ও ১ টি চুরির মামলা। এর মধ্যে ৮ (আট)টি মামলায় আদালত হতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে বঙ্গোপসাগরের পূর্ব অংশে এই কালাম বাহিনী তার দলের দুই জন সদস্যকে খুন করে লাশ গুম করে এবং অনেক জেলেদের অপহরণসহ মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই ও মোবাইলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী করে আসছে।

বেশকিছুদিন যাবৎ র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল কালাম বাহিনীর উপর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রেখেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার উপকূলে ডাকাতির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি কালে জলদস্যু কালাম বাহিনীর অবস্থানে অভিযান পরিচালনা করে কালাম বাহিনীর ‘নদীর কমান্ডার’ হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত জলদস্যু আমির (২৬)সহ ০৫ জন জলদস্যূকে ৭ (সাত) টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড কার্তুজ, ২৩টি রকেট ফ্লেয়ার এবং ০১ টি বন্দুকের অতিরিক্ত ব্যারেলসহ গ্রেফতার করে। এ সময় কালাম বাহিনীর প্রধান কালাম চৌধুরী ও তার কয়েকজন সক্রিয় সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.