সিটিনিউজ ডেস্ক :: আপনারা তাদের (রোহিঙ্গা) মিয়ানমারে ফিরে আসতে উৎসাহিত করুন। তারাই তো এখন ফিরে আসতে চাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কথা বলেছেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।
মিয়ানমার সফর শেষে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সু চির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “আমি বলেছি, তারা কেন আসতে চায় না? সেটা আপনি নিশ্চয়ই জানেন। তাদের আসার পরিবেশ নাই। তাই তারা তারা আসতে চায় না।”
আগুন জ্বলছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার গর্জনদিয়া, সারাপাড়া, বড়ডিল ও খোনাকারাপাড়া গ্রামে। সোমবার দুপুর থেকে জ্বলতে দেখা গেছে গ্রামগুলো। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ মিয়ানমার সরকার। তাদের চোখে, এই মুসলিম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অবৈধ অভিবাসী’।
তবে রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের নাগরিক, তার ঐতিহাসিক প্রমাণ তুলে ধরে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বক্তৃতায়ও তা তুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে রাখাইনে সুরক্ষার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তা দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা সু চিকে বলেছেন আসাদুজ্জামান কামাল, যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি সু চিকে বলেছি, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ কর। তোমাদের দেশে শান্তি আসলে আমরাও বাঁচি। তোমরাও এই অশান্তি থেকে রেহাই পাবা।”
“তাকে বলেছি, আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে। আপনিও (সু চি) মিয়ানমারকে সে জায়গায় নিতে পারবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেটা বিশ্বাস করে,” বলেন তিনি।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে এই দুই মাসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
