সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের কাছে জিম্মি রাঙামাটিবাসী
সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি শহর হচ্ছে দেশের এমন একটি শহর যে শহরে রিক্সা বা শহরের মধ্যেখানে যাতাযাতের জন্য সিএনজি ছাড়া বিকল্প কোন যানযাহন নেই। শুধু মাত্র সিএনজি অটোরিক্সার উপরে নির্ভর করে এ শহরে মানুষ শহরের মধ্যেখানে নানান স্থানে যাতাযাত করেন। এ সুযোগ নিয়ে অত্র এলাকার সিএনজি চালকরা যেনো মহা ক্ষমতার অধিকারী। পান থেকে চুন খসলেই সিএনজি বন্ধ রাখেন তারা। তাদের এমন কাজের ফলে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ জনগণ। মনে হয় সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের কাছে জিম্মি এ শহরের মানুষ।
সম্প্রতি রিজার্ভ বাজার শিশু নিকেতন স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিলন বাবুর সাথে তুচ্ছ ঘটনার পরিপেক্ষিতে টানা ঘন্টা খানিক বন্ধ রাখা হয় সিএনজি, এসময় অফিস-আদালত সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শহরবাসী হঠাৎ সিএনজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি শিশু নিকেতন স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিলন বাবুর সাথে কথা বলে তিনি বলেন, আমি রোজ সন্ধ্যায় হাঁটতে বের হয়, প্রতি দিনের মত আমি আর আমার বন্ধু নুর ইসলাম হাঁটতে বের হয়, রিজার্ভ বাজার আল মোবা হোটেলের সামনে একটি বড় গাড়ি দাঁড়ানো ছিলো, এছাড়া অন্য প্রান্তে বেশ কিছু পর্যটক সারিবদ্ধ ভাবে রির্জাভ বাজার দিকে যাচ্ছিলো। এমন সময় সিএনটি একটা আমার বন্ধুকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয়, আমি আমার বন্ধুকে ধরে ফেলি।
তখন আমার বন্ধু চালককে বলে ‘আপনি তো অভদ্র লোক একটা, দেখছেন মানুষ আছে তবেও তাদের উপরে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন।’ এ কথা বলতে না বলতে চালক নেমে এসে আমার বন্ধু সাথে কথা কাটাকাটি করে এক পর্যায়ে চালককে দেখে বেশ কিছু সিএনজি থেমে যায় এবং আমার বন্ধুকে দুই-তিনটা চরতাপ্পর দিয়ে দেয়। আমি বাঁধা দিতে গেলে চালকটি আমার গলা ধরে ফেলে, এ ঘটনা দেখে সেখানে আমার বেশ কিছু ছাত্র উপস্থিত হয়। আমার গায়ে হাত দেওয়ায় প্রাপ্তন ছাত্ররা ক্ষেপে গিয়ে চালকদেরকে তাড়া করে।
তিনি আরো বলেন, আমি তাদের সাথে কোন মারামারি করি নি। এটা আমার বয়স ও পেশার সাথে যায় না। সিএনজি চালকটি যে তাদের সমিতির সভাপতি আমি জানতামও না। তাদের বিরুদ্ধে মিলন বাবু ও তার বন্ধু নুর ইসলাম থানায় আলাদা আলাদা দুইটি অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
রাঙামাটি সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন’র সভাপতি অলি আহমেদ বলেন, মিলন ও তার বেশ কয়েকজন বন্ধু আমি রিজার্ভ বাজার থেকে আসার সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার উপরে হামলা করে, সেটা দেখে আমার সিএনজি শ্রমিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে রাখেন স্বল্প সময়, পরে কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
তিনি আরো জানান, মিলন ও তার বন্ধুদের এমন হামলার প্রতিবাদে তিনি থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিবার জনগণ আমাদের উপরে অন্যয় ভাবে নির্যাতন করবে আমরা কি চুপ করে থাকবো। শহরে ভিন্ন কোন যোগাযোগ মাধ্যম নেই বলে এমন নির্যাতন সাধারণ জনগণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিএনজি চালকদের এমন দুঃঅবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম শফি কামাল বলেন, তারা যদি এমন কর্মকান্ড করে তবে প্রতি মাসে যে আইন-শৃঙ্খলার মিটিং হয় সেখানে যদি কোন সদস্য এ বিষয় উপস্থাপন করে আমরা তাদের নেতাদের ঢেকে এনে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। জনসাধারণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত বেশ কিছুদিন আগে শহরের তবলছড়ি বাজার এলাকায় এক মহিলার সাথে সিএনজি চালক খারাপ ব্যবহার করাই মহিলাটি সিএনজি চালককে চর-তাপ্পর মারে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও শহরে র্দীঘ সময় সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ রাখা হয়। এমন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকরা যাহবাহন বন্ধ রাখেন, যার কারণে ভোগান্তিতে পরতে হয় সাধারণ জনগণকে।
