রোটারি ক্লাবগুলো দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে-রবিন

0

দিলীপ তালুকদারঃ চট্টগ্রামে বিশিষ্ট কলামিষ্ট, সমাজ সেবক, মীর রমজান আলীর পুত্র মীর নাজমুল আহসান রবিন রোটারেক্ট আন্তর্জাতিক জেলা ৩২৮০, বাংলাদেশ এর নির্বাচিত প্রধান, রোটারেক্ট জেলা প্রতিনিধি (ভি, আর, আর) হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনকারী রবিন গত বছর থেকে রোটারী ক্লাব অব চিটাগাং সেন্ট্রাল নামে একটি রোটারী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন ছাত্র/ছাত্রীদের সংগঠন উই ওল্ড পাবলিকানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে প্রথম পুনর্মীলনী অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। মুকিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মীর নাজমুল হাসান রবিন বিশিষ্ট সংগঠক ও সমাজ সেবক। গত সপ্তাহে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে আজকের সূর্যোদয়কে বলেন, ২০১৩ সালের ২২ মে আগস্ট রোটারিক্লাব অব চিটাগাং সেন্ট্রাল এর যাত্রা হয়েছিল রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮২ বাংলাদেশের অধীনে।

প্রতিবছর নেতৃত্বের পালাবদল রোটারির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী সভাপতিকে দায়িত্বভার হস্থান্তর করি। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ২০১৭-২০১৮ রোটারি বর্ষে সভাপতিি হসেবে রোটারিয়ান আরশাদ চৌধুরী ও সচিব হিসেবে রোটারিয়ান এ্যাডভোকেট শওকত আউয়াল চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন। চলতিবছর রোটারি ডিস্ট্রিক্ট- এর অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠান রোটারি জেলা অভিষেক আমাদের ক্লাবের স্বাগতিকতায়

অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সারাবাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার রোটারিয়ানবৃন্দ (রোটারিক্লাবের সদস্য) অংশ গ্রহণ করেন। আমাদের রোটারিক্লাব মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার দামলা গ্রামের দামলা প্রাইমারী স্কুল ও রাঢ়ি খাল গ্রামের দোয়েল শিশুনিকেতন স্কুলে স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার নির্মাণ করে দিচ্ছে। এছাড়াও আমাদের ক্লাব চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার হাজীগাঁও

অগ্রণীক্লাব ও অগ্রণী পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে নিরক্ষরও বয়স্ক শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের প্রথম সেবামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো রোটারি ইন্টারন্যাশনাল- এর জন্ম আমেরিকার শিকাগো নগরীতে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ২৩ ফেব্রুয়ারি। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন পল পার্সিভেল হ্যারিস ্নামক একজন আইনজীবি। উল্লেখ্য যে, আমেরিকার শিকাগো নগরীতেই ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে লায়ন ইন্টারন্যাশনাল এর জন্ম। তিনি বলেন, ১৯০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের

শিকাগোতে একটি পাবলিক টয়লেট স্থাপনের মাধ্যমে রোটারির সমাজ সেবামূল ককার্যক্রম শুরু হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত হয় রোটারি ফাউন্ডেশন যা কালক্রমে বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বেসরকারী তহবিল। এই রোটারি ফাউন্ডেশন- এরআর্থিক সহায়তায় ১৯৭৯ সালে রোটারি ইন্টান্যাশনাল ফিলিপাইনে ছয় লক্ষ শিশুকে প্রতিরোধক টিকা খাওয়ানোর মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাপী

পোলিও কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে সারাবিশ্বকে পোলিও মুক্ত করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে প্যান আমেরিকান হেল্থ অর্গানাইজেশান, ডঐঙ, টঘওঈঊঋ এবং টঝ ঈবহঃবৎ ভড়ৎ উরংবধংব ঈড়হঃৎড়ষ ধহফ চৎবাবহঃরড়হ- এর সাথে কাজশুরু করে। সে সময় বিশ্বে বছরে পোলিও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার যেখানে আজকে ২০১৭ সালে বিশজনেরও কম। বিশ্বে দুটি দেশ পাকিস্থান ও আফগানিস্থান ছাড়া বর্তমানে আর কোথাও পোলিও নেই। আশা করা যায় ২০১৮ সালে রোটারি কনভেনশনে পোলিও মুক্ত বিশ্ব ঘোষণা করা হবে। বিশ্ব থেকে পোলিও নির্মূলের জন্য এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় তেরশ কোটি মার্কিন ডলার।

এছাড়াও বাংলাদেশের রোটারি ক্লাবগুলো চাঁদপুর, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, খুলনা, ঢাকাসহ দেশে রবিভিন্ন প্রান্তে ১২টি হাসপাতালের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সুপেয় পানি, সেনিটেশান, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ক্লাব গুলো কাজ করছে।

আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমেরিকার শিকাগো নগরীতে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এর সদর দপ্তর অবস্থিত। বর্তমানে বিশ্বের ২০০টির অধিক দেশ ও ভৌগলিক এলাকায় ৫৩৫ টি রোটারি জেলার মাধ্যমে ৩৫হাজারের বেশি রোটারি ক্লাব বিদ্যামান। এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন। বর্তমানে বাংলাদেশে ২টি রোটারি জেলায় প্রায় ৩০০টি ক্লাব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রোটারি জেলা ৩২৮১ এর- রোটারি গভর্ণর (উরংঃৎরপঃ এড়াবৎহড়ৎ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রোটারি ক্লাব অব ঢাকার সাবেক সভাপতি ও কর কমিশনার ফজলুল হক আরিফ এবং রোটারি জেলার ৩২৮১ এর- রোটারি গভর্ণর (উরংঃৎরপঃ এড়াবৎহড়ৎ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং সাগরিকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তৈয়ব চৌধুরী। চট্টগ্রাম জেলায় বর্তমানে ৪২ টি রোটারি ক্লাব তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরো বলেন, বিগত ২০১৬-২০১৭ রোটারি বর্ষে তৎকালীন সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (জিম) এর- নেতৃত্বে আমাদের ক্লাব ফেনী জেলার দাগন ভূইয়া থানা অঞ্চলে দুটি অসহায় পরিবারকে একটি করে ঘর এবং চট্টগ্রাম জেলার হাটাজারী থানা অঞ্চলে আরেকজন অসহায় বিধবা নারীকে একটি, সর্বমোট তিনটি ঘর তৈরি করে দিয়েছিলাম।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.