ঢাকা: বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন ভেঙেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে শহীদ মিনারে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের অনশন ভাঙান। তবে সাধারণ শিক্ষকরা এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। দাবির বিষয়ে শহীদ মিনারেই সুস্পষ্ট ঘোষণা চেয়েছেন তারা।
অনশন ভাঙিয়ে মন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান হবে।’ মন্ত্রী শিক্ষক নেতাদের অনশন ভাঙিয়েই স্থান ত্যাগ করেন। তবে সাধারণ শিক্ষকরা সেখানে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাদের শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে মাইকে অনুরোধ জানাচ্ছেন।
এর আগে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আমরণ অনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। বেতন স্কেলে বৈষম্য দূর করার দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দিন ধরে এই অনশন করছিলেন শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল আমিন জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দাবির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে মন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
গত শনিবার সকাল থেকে শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের ডাকে আমরণ অনশন শুরু হয়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠন অংশ নেয়। সোমবার অনশন কর্মসূচির তৃতীয় দিনে প্রায় ৪০ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
শিক্ষকদের এই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে সংহতি প্রকাশ করেন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ বিভিন্ন নেতারা তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের চেয়ে তিন ধাপ নিচের স্কেলে বেতন পান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১ তম গ্রেডে বেতন পান। যার মূল বেতন শুরু ১২,৫০০ টাকায়। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। যার মূল বেতন শুরু ১০,২০০ টাকায়।
