নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ৪ নারীকে ধর্ষণে করা মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামকে।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) এ মামলার সমস্ত নথি পিবিআই’কে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
ঘটনার ১২ দিনের মাথায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার কোনও কূল-কিনারা করতে না পেরে পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করে মঙ্গলবার মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আজ আমরা এ মামলার ফাইলপত্র বুঝে নিয়েছি। শিগগিরই তদন্তকাজ শুরু হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে মহানগরীর আওতাধীন কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের শাহ মিরপুর গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে চারজন যুবক জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে চার নারীকে ধর্ষণ করে। চারজনের মধ্যে তিনজন প্রবাসী তিন ভাইয়ের স্ত্রী, অন্যজন তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয়া যুবতী। এসময় ধর্ষকরা নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও ১৫ ভরি স্বণালঙ্কারও নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করতে গেলে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও পটিয়া থানা পুলিশের মধ্যে মামলা নথিভুক্ত করায় টালবাহনা শুরু হয়।
প্রায় ৭ দিন গড়িমসি করেও মামলা না নেয়ায় আনোয়ারা থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় এমপি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের নির্দেশে কর্ণফুলী থানা পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়। পরে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় পড়ে যায়। পুলিশও তৎপর হয়ে উঠে।
এ ঘটনায় পুলিশ শাহ মীরপুর গ্রামের আহমদ মিয়ার ছেলে মো. সুমন ওরফে আবু (২৩) এবং পটিয়া উপজেলার শিকলবাহা গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে মো. ইসমাঈল ফারুকী (২৫) এবং সর্বশেষ গত রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাতুরী-চৌমুহনী এলাকা থেকে বাপ্পী (২৩) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করে।
এদিকে গতকাল সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কর্ণফুলী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মামলার তদন্তে এবং তাৎক্ষণিক যথাযথ ভূমিকা পালনে নিজেদের ব্যর্থতার কতা স্বীকার করেন সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) হারুন উর রশীদ হাযারী।
তিনি বলেন, ‘স্পর্শকাতর এ ঘটনার পর আমাদের (পুলিশের) পক্ষ থেকে যে ভূমিকা পালন উচিত ছিল সেক্ষেত্রে আংশিক ব্যর্থ হয়েছি। মামলা নেয়া কিংবা আসামি গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’
