হরিণ শাবকটি এখন বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে

0

বশির আলমামুন,চকরিয়া: শিকারীর তাড়া খেয়ে কক্সবাজার সাগর সৈকতের দরিয়া নগরের মেরিন ড্রাইভ সড়কে লাফ দেয়া আহত হরিণ সাবকটির ঠাই হয়েছে ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে। পার্ক কতৃপক্ষের নিবিঁড় পরিচর্যা লালন পালন উন্নত চিকিৎসার কারণে এ হরিণ সাবকটি এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ হিমছড়ি বনাঞ্চলে শিকারীদের উৎপাতে প্রাণীকুল বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বিপন্ন প্রাণী মাদি হরিণ শাবক পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে চলে আসছে সমুদ্র সৈকতে। সর্বশেষ গত রোববার সকালে আহত ওই হরিণ শাবককে সাগর তীরের দরিয়ানগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

পরে চিকিৎসা দিয়ে দূর্লব এ হরিণটিকে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে অবমুক্ত করা হয়। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হিমছড়ির শতাধিক ফিট উঁচু খাড়া পাহাড় থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কে লাফ দেয় প্রায় ছয়মাস বয়সী মাদি হরিণ শাবকটি। পরে হরিণ শাবকটি সমুদ্র সৈকতে এসে ক্লান্ত হয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে। সেখান থেকে বনকর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় শাবকটি উদ্ধার করে প্রাণী চিকিৎসকের (ভেটেরিনারি সার্জন) কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার শহরে এসে হরিণ শাবকটি নিয়ে যায় এবং ওইদিন বিকালে পার্কে সেটি অবমুক্ত করে।

স্থানীয় পর্যটন কর্মী শফি উল্লাহ বলেন হরিণ শাবকটি বনাঞ্চলে তাড়া খেয়ে সমুদ্র সৈকতে চলে এসেছে। তিনি বলেন উদ্ধারের পর শাবকটির শরীরে আঘাতের নানা চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাণীটির শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবীর জানান খবর পেয়ে বনকর্মীরা হরিণ শাবকটি উদ্ধার করে প্রাণী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই বনাঞ্চলে অন্তত এক দশক পর হরিণের দেখা মিলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন গত কয়েক বছরে হিমছড়ি বনাঞ্চলে বনায়ন করে পাহাড়গুলোকে সবুজে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। এ কারণে এই বনাঞ্চল থেকে অতীতে হারিয়ে যাওয়া অনেক পশুপাখি আবারও ফিরে আসছে। এরই মধ্যে অন্যতম হল হরিণ। গত ছয় মাস আগে এ বনাঞ্চলে হরিণের একাধিক দল বাচ্চা প্রসব করেছে।

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের সহকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ফরেষ্টার) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হরিণ সাবকটি নিবিঁড় পর্যবেক্ষণে রেখে নিয়মিত পরিচর্যা ও ভ্যাটেরেনারী সার্জন দ্ধারা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়েছে।

দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন দরিয়ানগর-হিমছড়ি বনাঞ্চলে গত কয়েক বছরে পশু পাখির বিচরণ বেড়েছে। সেখানে হাতি শুকরসহ আরো কয়েক প্রজাতির শাবকের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে হরিণ শাবকের কিচির মিচির ডাক শোনা গেছে।

বন ও জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন এটা বনের স্বাস্থ্য বৃদ্ধির লক্ষণ। স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজারের দক্ষিণাঞ্চলের বনাঞ্চল জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ হলেও গত একদশক ধরে বসতিসহ নানা কারণে বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এবং শিকারীদের উৎপাতে প্রাণীকুল বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাণীরা বনাঞ্চল ছেড়ে প্রায়শ লোকালয়ে চলে আসছে। গত মাসাধিককাল ধরে দরিয়ানগর থেকে মাঙ্গালাপাড়া পর্যন্ত এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই নেমে আসছে হাতি, শুকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী।

এরমধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বন্য শুকরের দল হিমছড়ির সেনাক্যাম্পে প্রবেশ করে আতংকজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.