গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে আহত ২ জনের মধ্যে নিহত ১

0

নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ :: চন্দনাইশ উপজেলা সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের ঘটনায় গোডাউনের ভিতরে অগ্নিদগ্ধ ২জন আশংকাজনক অবস্থায় চিকিসাধীন থাকার পর গত ১৯ জানুয়ারি আশংকাজনক অবস্থায় আহত ২ জনকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতলে বান ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ৭ দিন চিকিৎসা চলাকালীন গতকাল ২৪ জানুয়ারি ভোর রাতে সিরাজুল ইসলাম মারা যায়।

গত ১৮ জানুয়ারি উপজেলার জোয়ারা রাস্তার মাথা এলাকায় সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল বিষ্ফোরণে ৪টি দোকান ও একটি বাসা ভষ্মীভূত হয়।

এসময় সিলিন্ডার গ্যাসের গোডাউনের ভিতরে থাকা কর্মচারী মো. রমজান আলী ও আগুন নিভাতে যাওয়া সিএনজি টেক্সি চালক সিরাজুল ইসলাম আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিসাধীন থাকা অবস্থায় টেক্সি চালক সিরাজুল ইসলাম মারা যায়।

উল্লেখ্য যে, উপজেলার জোয়ারা রাস্তার মাথা এলাকায় একটি ভবনে হাজী আবু সুলতান এন্টার প্রাইজ নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সিলিন্ডারের বড় ছোট বোতল বিক্রি করে আসছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ তারা বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করে বাজারজাত করে আসছিল বলে স্থানীয়দের অীভযোগ। ঘটনার দিন গত ১৮ জানুয়ারি গুদামে গ্যাস ভর্তি করার সময় একটি সিলিন্ডার বিষ্ফোরিত হয়ে আগুনের সুত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনার দিন সিল্ডিার গ্যাস বিষ্ফারণে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়লে প্রায় সহস্রাধিক গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে গিয়ে অগ্নিকান্ড আরো ভয়াবহ রূপ নেয়।

এসময় পাশ্ববর্তী মোহাম্মদ শিবলুর মালিকানাধীন ৩টি দোকান, জুনায়েদের মালিকানাধীন ১টি চা দোকান, দুলাল বড়ুয়ার ১টি ভাড়া বাসা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গত কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দোহাজারী চাগাচর এলাকায় ভ্রাম্যমান গ্যাস বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।

তাছাড়া এ মহলটি গাছবাড়িয়া কলেজের পশ্চিম পাশে দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবারক হোসেন ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তারা স্থান পরিবর্তন করে পুনরায় এ গ্যাস ব্যবসা শুরু করলেও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরবতা পালন করে। ফলে যা হওয়ার হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় ২ জন শ্রমিক।

গতকাল নিহত সিরাজুল ইসলামের লাশ চন্দনাইশ সৈয়দাবাদ আসলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেছেন, সিরাজুল ইসলাম মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। ময়লা তদন্তের জন্য প্রেরণ করবে বলে জানান। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলেও জাানিয়েছেন।

গত ১৮ জানুয়ারি গ্যাস বিষ্ফারণে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার,ব্যবসায়ী,সরকারি কোন দপ্তর বা কর্মকর্তা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন রকম অভিযোগ থানা কর্তৃপক্ষ পাননি বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান বলেছেন তিনি ঘটনার গত ১৮ জানুয়ারি বিষ্ফারণ সর্ম্পকে এবং ক্ষয়-ক্ষতি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের বরাবরে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে অদ্যাবধি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা ব্যবসায়ী, পরিবেশ অধিপ্তরের পক্ষ থেকে কোন রকম অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

ভবনের মালিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবাসয়ীদের বিরুদ্ধে তাদের অগুচরে এ ব্যবসা করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবাসায়িরা পলাতক রয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.