চকরিয়া প্রতিনিধি, সিটি নিউজঃঃ কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোঃ মিরাজুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিরাজ ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড রংমহল গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের প্রকাশ কালু’র পুত্র।
মিরাজের বড়ভাই মিজানুর রহমান জানান, মিরাজের সংসারে স্ত্রী তৈয়বা বেগম ও ১৪ মাসের এক সন্তান রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে গত শুক্রবার সকালে লামা উপজেলাধীন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাছড়ি এলাকার একটি মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায় মিরাজ। এই খবর পেয়ে তিনি ও মিরাজের স্ত্রী চট্টগ্রাম গিয়ে তাকে ধরে চট্টগ্রাম থেকে ওইদিন রাত ১২টার দিকে তারা ডুলাহাজারা পৌঁছেন। এবং বিচারের জন্য ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।
স্থানীয় চৌকিদার নূরুল ইসলাম বলেন, মিরাজকে পরিষদের ৩নং কক্ষে বন্দি রাখা হয়। পাহারার দায়িত্বে ছিলাম আমরা দু’জন। এক পর্যায়ে রাতে সাড়া-শব্দ না পেয়ে মিরাজকে ডাকা হয়। কিন্তু তার প্রতিউত্তর না পাওয়ায় পিছনের জানালার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সে কম্বলের ছেঁড়া অংশ দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলছে।
ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও মিরাজ অন্য একটি মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায়। পরে ওই মেয়েসহ তাকে ধরে আনে বড় ভাই মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম। বিষয়টি সমাধানের জন্য আজ শনিবার সকালের সময় ধার্য্য ছিল। মিরাজকে পরিষদের একটি কক্ষে রাখা হয়। কিন্তু সেখানে কম্বলের ছেঁড়া অংশ দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।’
নিয়ম না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে বন্দী রাখার ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করে স্থানীয়দের মাঝে। এদিকে আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. ইকবাল-উর রহিম ও চকরিয়ার থানার এসপি সার্কেল মতিউল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী বলেন ‘চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসআই এনামসহ সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মিরাজের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাললের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
