জাতীয় সংগীত গাইতে বাধা কোথায়: হাই‌কোর্ট

0

সিটিনিউজ ডেস্ক:: জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া যাবে না, সেটি মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনের কোথায় এ কথা আছে, সেটি জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী‌দের জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করে সরকারের সিন্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে এই প্রশ্ন রাখে আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক হলেও কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় এই চর্চা নেই। এ নিয়ে দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে। তবে সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করে আদেশ জারি করেছে।

গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামের সুখদেব ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম মিয়া ও ঢাকার কদমতলা মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।  শুনা‌নির সময় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছি‌লেন অ্যাট‌র্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তৈমুর আলম খন্দকারকে বিচারপতি বলেন, ‘আপনি দেখান পবিত্র কোরআনের কোথায় আছে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না? পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই যে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না।’

বিচারপতি বলেন, ‘আগে তো মাদ্রাসার সিলেবাসে (পাঠ্যক্রম) অংক, ইংরেজি বিজ্ঞান বিষয় অর্ন্তভূক্ত ছিল না। যুগের চাহিদা অনুযায়ী সে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইসলাম ধর্ম ডে বাই ডে উন্নত হচ্ছে। প্রকারন্তরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার জন্যই এ রিট করা হয়েছে।’

বিচারপতি বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত গাইবে আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গাইবে না, এটা তো হতে পারে না। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গেলে যখন বিদেশিরা জাতীয় সঙ্গীতের বিষয় জানতে চাইবে তখন শিক্ষার্থীরা কী জবাব দেবে?’।

বিচারপতি আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে আমরা (মুসলমানরা) ইংরেজি না শিখে পিছিয়ে পড়েছিলাম। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিতে এ ধরণের রিট করা হয়েছে।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.