চকরিয়ায় তহশিল অফিসের সহায়কের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

0

চকরিয়া প্রতিনিধি:: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার থানা সেন্টারে অবস্থিত চিরিঙ্গা ইউনিয়ন তহশিল অফিসটি এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এ অফিসের যে কোন কাজে সাধারন মানুষকে জিম্মী করে ঘুষ আদায়, হয়রানি সহ নানা অনিয়ম এখন নিত্যকার নিয়মে পরিণত হয়েছে। নামজারী, রিভিউ মামলার তদন্ত, খাজনা আদায় সহ নানা কাজে মানুষ এখন চরম ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এখানে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যায় না। যে টাকা দিতে পারবে তার ফাইল কোন তদন্ত ছাড়াই পাশ হয়ে যাবে। দখল না থাকলে ও দখল আছে বলে রিপোর্ট দেন। টাকা দিতে না পারলে মাসের পর নামজারী সহ বিভিন্ন মামলার ফাইল আটকে রাখা হয়। ফলে নামজারীতে অনেকের সময় পার হয়ে। আবার নতুন করে আবেদন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকাতাদের নাম ভাঙ্গগিয়ে সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের সহায়তায় অফিসের পিওন জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ কালা জাহাঙ্গীর ও একজন উম্মদার র্দীঘদিন ধরে তহশিল অফিসকে জিম্মী করে রেখে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হওয়া ভূক্তভোগীরা উর্দ্ধতনদের কাছে তাদের এসব অপকর্ম ও অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ও কোন সুফল পায়নি বলে অভিযোগ করেছে। অফিসে একজন তহশীলদার ও একজন সহকারী তহশীলদার থাকা সত্বে ও তাদের তোয়াক্কা না করে কালা জাহাঙ্গীর এখন তহশীলদারের ভূমিকা পালন করছে বলে একাধিক ফরিয়াদির অভিযোগ। তদন্ত থেকে শুরু করে রির্পোট লেখা সহ অফিসের সব কাজ করেন পিওন জাহাঙ্গীর।

জানাগেছে চকরিয়া পৌরসভা, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী,ডুলাহাজার, খুটাখালী ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ গুলো চিরিংগা ইউনিয়ন তহশিল অফিস কতৃক পরিচালিত হয়। এসব কাজ পরিচালনা জন্য রয়েছে একজন তহশিলদার ও একজন সহকারী তহশীলদার। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে এ অফিসে যোগ দেয়া অফিস সহায়ক জাহাঙ্গীর আলম নিজে তহশীলদারে ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অফিসকে জিম্মী করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের সাথে আতাত করে ৪/৫ মাসের ব্যবধানে সাধারণ মানুষকে জিম্মী করে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে অল্পদিনের ব্যবধানে সে হয়ে উঠেছে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।

উপরোক্ত এলাকার নামজারী সহ বিভিন্ন মামলা নিয়ে আসা লোকজন জানায় জাহাঙ্গীর আলম নামজারী মামলার কন্ট্রাক নিয়ে কাজ আদায় করে দেয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিটি মামলায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করে। সময় মত টাকা দিতে না পারলে মামলা হারিজ করে দেয়ার ভয় দেখায় বলে অভিযোগ। নামজারী , রিভিউ সহ যে কোন মামলায় তহশীলদারের পরিবর্তে ফিল্ডে তদন্তে যান পিওন জাহাঙ্গীর। এ সময় সে দখল বেদখল নিয়ে মামলার বাদী ও বিবাদীদের টাকার জন্য চরম ভাবে হয়রানি করে থাকে। সে বিএনপি করার সুবাদে কোন আ’লীগ নেতা কর্মীর মামলা আসলে তা ফাইল বন্দী থাকে আর বিএনপি নেতা কর্মীদের কাজ তাড়াতাড়ি করে দেয়।একটি সূত্র জানায় প্রতি মাসে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টি নাম জামজারী মামলা জমা হয় চিরিংগা তহশীল অফিসে। অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর এসব মামলা থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে ফাইতং পিউর পানির এজেন্টে নিয়েছে এবং ফাইতং এলাকায় ইটভাটায়ও লগ্নি করেছে। যদি দূদক সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বন কর্মকর্তারা তদন্তে আসে তা হলে ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক তার জমানো অর্থ ধরা পড়বে। বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। একই অভিযোগ একজন উম্মাদারের বিরুদ্ধে ও প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে সে এ অফিসে কর্মরত রয়েছেন। টাকা ছড়া কোন ফাইল খূঁজে দেনা আলমিরাতে লুকিয়ে রাখে।

এদিকে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদান করার পর ঘুষ, দূর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ব বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলে ও মূলত তা ফলপ্রসু হচ্ছেনা।

চিরিংগা তহশিল অফিসের পিওন জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন যদি এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায় তা হলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.