সিটিনিউজবিডি : যানজটকে আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরে রেখেছে প্রায় দুই লাখ নিবন্ধনহীন অবৈধ রিকশা। এসব অনুমোদনহীন রিকশার সংখ্যা বৈধ রিকশার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে সরকারের মহাপরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হলো নগরীর সব প্রধান সড়কগুলো থেকে রিকশা তুলে নেওয়া।
মহাসড়কে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে রিকশা চলাচলের কারণে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এতে যানজট দেখা দেয়। সড়কের এক একেকটি মোড়ে প্রতিদিন বহু রিকশার অবস্থান ও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে নগরীতে বেশি রিকশা থাকায় যানজট চরম আকার ধারণ করে।
ইতোমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভিআইপি ও বেশ কিছু প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদন করা হলেও নতুন করে আর কোনো নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়।
সূত্র জানায়, ৮০’র দশকে এরশাদ সরকারের সময় সর্বশেষ রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার। এরপর থেকে নতুন করে আর কোনো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।
কিন্তু রাজধানীতে যেখানে-সেখানে রিকশা তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিনই এসব রিকশা রাজপথে নামছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন সংগঠন, সমিতি ও সংস্থার নাম দিয়ে এ সব রিকশা চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সংগঠনের নেতা জানান, রিকশার পেছনে যেসব ক্রমিক নম্বর দেওয়া আছে, তা কোনো নিবন্ধন নম্বর নয়। কোনো রিকশা যেন চুরি ও হারিয়ে না যায়, সে জন্য এসব নম্বর দেওয়া হয়ে থাকে।
সংগঠনের দাবি, সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনেকদিন থেকেই রিকশার নিবন্ধন দেওয়ার জন্য আবেদন জমা দেওয়া রয়েছে। কিন্তু সে সব আবেদনের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আর এ জামান বলেন, রাজধানীতে নিবন্ধিত বৈধ রিকশার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৬০০।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক তাদের আরো ৪৩ হাজার রিকশা ও ভ্যান চলাচল করছে; যা নিবন্ধিত নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে রাজধানীতে যে সব অবৈধ রিকশা চলাচল করছে, সেগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন বলেন, ৮০’র দশক থেকে রিকশার নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বহু রিকশা অবৈধভাবে নামানো হয়েছে। রিকশাকে আমরা ডিসকারেজ (নিরুৎসাহিত) করছি।
তিনি বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশনেরই সিদ্ধান্ত হলো রাজধানীতে নতুন আর কোনো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। সব অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ করা হবে।
রাজধানীতে যানজটের জন্য দায়ী রিকশা, তা নাগরিকদেরও অভিযোগ। সে জন্য নাগরিকদের দাবি অনুসারে নগরীর সব ধরনের অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে প্রায় সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে অভিযান চালানো হয়ে থাকে।
যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি রিকশামুক্ত নগরী করাও একটি অন্যতম সিদ্ধান্ত বলে তারা জানিয়েছেন।
