সিটিনিউজ ডেস্ক:: গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ডকে এক যুগ পর হাতছানি দিচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। দুর্দান্ত হ্যারি কেইনে রাশিয়াতে প্রথম দুই ম্যাচ জেতা তরুণ এই দলটির ওপর ভরসা রাখছে ব্রিটিশরা। ‘পুঁচকে’ তিউনিসিয়া ও পানামাকে হারানো এই ইংল্যান্ডকে সেজন্য দিতে হবে আসল পরীক্ষা, মঙ্গলবার মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে যেটা নেবে কলম্বিয়া।
রাত ১২টায় ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ার ম্যাচ দিয়ে সমাপ্ত হবে শেষ ষোলোর লড়াই। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে নাগরিক, মাছরাঙা, সনি টেন ২ ও টেন ৩ চ্যানেলে।
তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতান কেইন। নবাগত পানামাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিতে অধিনায়ক করেন হ্যাটট্রিক। ৫ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকা টটেনহ্যাম হটস্পার স্ট্রাইকার বিশ্রামে ছিলেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে তাকে রেখে একাদশ সাজাবেন গ্যারেথ সাউথগেট। পানামা ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে বাদ পড়া ডেলে আলীও ফিরছেন।
২০০৬ সালের পর শেষ আটের টিকিট পেতে প্রথম দুই ম্যাচের শক্তিশালী দল নিয়ে স্পার্তাকে নামবে ইংল্যান্ড। দলের রাইট ব্যাক কিয়েরান ট্রিপিয়ার কলম্বিয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্ক, ‘তাদের নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। আপনি যখন তাদের দলের খেলোয়াড়দের দিকে তাকাবেন এবং তারা যেভাবে গ্রুপ থেকে উঠে এসেছে লক্ষ করবেন, তখন বুঝবেন তাদের দলে দারুণ খেলোয়াড় আছে। এনিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
ইংল্যান্ডের সমীহ প্রাপ্য কলম্বিয়ার। কারণ তাদের মতো সহজ গ্রুপ ছিল না গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের। তাছাড়া কলম্বিয়ার শুরুই হয়েছিল জাপানের কাছে হার দিয়ে। তারপর পোল্যান্ড ও সেনেগালকে হারিয়ে হয়েছে গ্রুপসেরা। এবার একমাত্র দল হিসেবে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে নকআউটে উঠেছে তারা। যদিও দলের দুই তারকা রাদামেল ফ্যালকাও ও হামেস রোদ্রিগেস তাদের নামের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি।
সেনেগালের বিপক্ষে তো ৩১ মিনিট পরই ডান পায়ে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেন রোদ্রিগেস। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা এই মিডফিল্ডার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা মরার লড়াইয়ে অনিশ্চিত।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে বড় পরীক্ষা হলেও পরিসংখ্যান এগিয়ে রাখছে ইংল্যান্ডকে। থ্রি লায়নদের বিপক্ষে পাঁচবারের দেখায় একবারও জেতেনি দক্ষিণ আমেরিকানরা। সবশেষ ২০০৫ সালে নিউ জার্সিতে মাইকেল ওয়েনের হ্যাটট্রিকে ৩-২ গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছিল কেবল একবার। ১৯৯৮ সালে ড্যারেন অ্যান্ডার্টন ও ডেভিড বেকহামের গোলে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে জিতেছিল ইংলিশরা।
তাতে কী! ওসব পরিসংখ্যান নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কলম্বিয়ার। গতবারের নকআউট ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাসী করছে দলকে। ১২ বছর আগে সবশেষ নকআউট জেতা ইংল্যান্ডকে কলম্বিয়া ভয় পাচ্ছে না বললেন গোলরক্ষক দাভিদ ওসপিনা, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। ব্রাজিল বিশ্বকাপের চেয়ে আরও অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং শক্তিশালী দল আমাদের। চার বছর আগের চেয়ে অনেক ভালো দল আমরা। আমাদের খেলোয়াড়রা সেরা ক্লাবে খেলে, সেরা লিগে। এই ধরনের ম্যাচ খেলতে অভ্যস্ত, তাই কোনও কিছু আমাদের ভীত করতে পারবে না।’
বোঝাই যাচ্ছে, ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষাই নেবে হোসে পেকারম্যানের শিষ্যরা। বিবিসি, ইএসপিএনএফসি, গোল ডটকম
