রাজন হত্যার মামলা দায়রা জজ আদালতে

0

সিটিনিউজবিডি : সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যা মামলা বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক শাহেদুল করিম সোমবার সকালে শুনানি শেষে মামলাটি স্থানান্তর করেন।

সিলেট জেলা জজ আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত ১৬ আগস্ট শিশু রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে সৌদিতে আটক কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ ও আরেক আসামি পাভেলকে পলাতক দেখানো হয়। ২৪ আগস্ট আদালত চার্জশিট আমলে নেন। পরদিন আদালতের নির্দেশে পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে এসএমপি’র জালালাবাদ থানা পুলিশ।

আলোচিত এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন- আলী হায়দার, মুহিদ আলম, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নূর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।

গত ৮ জুলাই শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে মাইক্রোবাসচালক শেখ আজিজুর রহমানের শিশুপুত্র রাজন হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক ভিডিওচিত্র ফেসবুক-ইউটিউবের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা শিশু রাজনকে শুধু পিটিয়েই হত্যা করেনি, ঘাতকরা হত্যাকাণ্ডের ভিডিওচিত্রও ধারণ করে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া শিশু রাজনকে নির্যাতনের ২৮ মিনিটের ভিডিও ভিত কাঁপিয়ে দেয় সুশীল সমাজের।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিহতের শরীরে ৬৪টি আঘাতের চি‎‎হ্ন পাওয়া যায়। ১৪ জুলাই আলোচিত মামলাটির তদন্ত কাজ মনিটরিং করার জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে কমিটির সদস্য এসআই জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ওই দিন সকালে পুলিশ মিরেরগাঁও এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেন আবলুছ (৩২) নামে আরেকজনকে আটক করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়। ১৪ জুলাই রাজন হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আলী সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম) শাহেদুল করিমের আদালতে জবানবন্দি দেন। আগের রাতে পুলিশ তাদের আটক করে।

এদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহায়তা ও শিশু রাজনের বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠায় ১৪ জুলাই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

১৫ জুলাই আলোচিত মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। একই দিন মামলার অন্যতম ঘাতক ময়না চৌকিদার ওরফে বড় ময়নাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ওই দিন বিকেলে শিশু রাজন হত্যা মামলার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী দুলালকে সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাতে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়াকেও এলাকাবাসী পুলিশের হাতে তুলে দেন। ১৬ জুলাই সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আনোয়ারুল ইসলাম ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়া ও দুলালের বিরুদ্ধে সাত দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২০ জুলাই হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ময়না চৌকদার। ঈদের দিন আটক রুহুল আমিন ও আগের দিন আটক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আলী হায়দারের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ ছাড়া রিমান্ডে থাকা মুহিত আলম ও ইসমাইল হোসেন আবলুসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় ফের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

২১ জুলাই রিমান্ডে থাকা ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২২ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রাজনের বাড়িতে যান সান্তনা দিতে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই খুনি কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার আইনে সকল ঘাতকদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, রাজনের খুনি কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। ওই দিন মামলার অন্যতম আসামি মুহিত আলম সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২৩ জুলাই আলী হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ দিন জনতার হাতে আটক তাজ উদ্দিন বাদলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।
২৪ জুলাই পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম ও এসআই জাকির হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে ক্লোজড করা হয়। রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কুমারগাঁও শেখপাড়া থেকে আয়াজ আলীকে গ্রেফতার করে। ২৫ জুলাই আদালত তার বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২৭ জুলাই শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা পরবর্তী মামলা নিয়ে পুলিশের গাফিলতি ও আসামি পলায়নের সুযোগ দেওয়ায় জালালাবাদ থানার ক্লোজড হওয়া ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দফতর। ২৮ জুলাই মামলার অষ্টম আসামি হিসেবে আয়াজ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.