সিটি নিউজ ডেস্ক : বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ইমাম আ’যম ও আ’লা হযরত গবেষণা পরিষদ এর উদ্যোগে আজ সোমবার ১৫ অক্টোবর চতুর্দশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ ইমাম আহমদ রেজা খান রহ. (আ’লা হযরত) এর ওফাত শতবার্ষিকী উপলক্ষে আ’লা হযরত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। কমিটির আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম ফজলুল হক’র সঞ্চালনায় ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া চট্টগ্রামের শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলাইমান আনছারীর সভাপতিত্বে উদ্বোধক ছিলেন কনফারেন্স প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিএইচপি ফ্যামেলী’র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সূফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব জননেতা এম এ মতিন, লেবানন গ্লোবাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর শায়খ ড. জামাল মুহাম্মদ সাকার আল-হোসাইনী আল-হাশেমী, ভারতের আল্লামা নূরানী মিয়া আশরাফী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সাবেক মূখ্যসচিব মুহাম্মদ আব্দুল করিম।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্বারী ড.শায়খ আহমদ নাঈনা (কায়রো, মিশর) ও ক্বারী শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল-আযহারী।
কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী মাথাচাড়া দিয়ে উঠা জঙ্গীবাদের করাল থাবা থেকে মুসলিম জাতিকে রক্ষা করতে হলে মানবতাবাদী ইসলামের উপলদ্ধি করতে হবে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিকৃত ব্যাখ্যায় উগ্রবাদী ইসলামের বিপরীতে উদারনৈতিক সামগ্রিক ইসলামের সঠিক দর্শন পেতে হলে আমাদের আ’লা হযরতের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনি জীবদ্দশায় বৃটিশ আমলে বৃটিশ বিরোধীতার পাশাপাশি ওহাবী ও খেলাফত আন্দোলনের ভুল ফতোয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভারতবর্ষের মুসলমানদের রক্ষা করেছিলেন, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে উপমহাদেশের দু’দুটি স্বাধীন মুসলিম দেশের অভ্যুদয়ে ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি আজো তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে অস্থির উগ্রবাদী ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ইসলামের নামে ইসলাম বিকৃতকারী গোষ্ঠি যেমন শিয়া, কাদিয়ানী, বাহায়ী, লা-মাযহাবী ইত্যাদি সম্প্র দায়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য কিতাব লিখে মুসলিম মিল্লাতের আক্বিদা-বিশ্বাসকে হেফাজত করেছেন।

বক্তারা আরো বলেন-৫৪টি বিষয়ে দেড় সহস্র গ্রন্থের লেখক আ’লা হযরত ছিলেন যুগের আবু হানিফা। ধর্মীয় বিষয় ছাড়াও চিকিৎসা, গণিত, বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, অর্থনীতিসহ বহু বিষয়ে তিনি অমূল্য গ্রন্থ প্রণয়ন করে গেছেন। এই বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জীবন ও কর্মের উপর বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিশর আল-আযহারসহ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলছে।
কনফারেন্সের উদ্বোধক আলহাজ্ব সূফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ ও ইসলামের সঠিক দিক-নির্দেশনার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আ’লা হযরত ইনষ্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবী। তাহলে মুসলিম মিল্লাতের বিশ্বমনীষা উপকৃত হবে এবং ইসলামের মৌলিক শান্তির স্বরূপ হলমে তাসাউফ তথা আধ্যাত্মিকতায় মানুষ আরো বেশি করে ঘনিষ্ট হবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন-দেশবরেণ্য পদার্থ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. শমশের আলী, প্রফেসর ড. আব্দুর রশীদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আল্লামা কাজী মুঈনুদ্দীন আশরাফী, ড. একেএম সাইফুল ইসলাম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যক্ষ ড. একে এম মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম রেজভী, আল্লামা আবুল কাশেম নূরী, ড. এরশাদ আহমদ আল বুখারী, ড. আবুল হোসেন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মুফতি মাহমুদুল হাসান, মুফতি জসিম উদ্দিন আল-আযহারী, মাওলানা হাফেজ মুনিরুজ্জামান আল-কাদেরী, পীরে তরিকত আবুল কাশেম রিজভী, অধ্যক্ষ আবু জাফর মুহাম্মদ হেলাল, সৈয়দ মাওলানা মোজাফ্ফর হোসেন, ড. ইসমাঈল হোসাইন সিরাজী, মাওলানা মাসুম বাকী বিল্লাহ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. নাসির উদ্দিন নঈমী, পীরে তরিকত আব্দুর রহমান আল-কাদেরী, পীরে তরিকত গোলাম আব্দুল কাদের কাউকাব, পীরে তরিকত হাফেজ অলিউল্লাহ আশেকী, অধ্যক্ষ কাজী মহিউদ্দিন মোল্লা, পীরে তরিকত হাবিবুল্লাহ, পীরে তরিকত ফয়েজী আহমদুল্লাহ, পীরে তরিকত সৈয়দ নেসার আহমদ, মাওলানা ফখরুজ্জামান, মাওলানা মাহমুদুর রহমান চিশতী, মাওলানা নাজমুস সা’আদাত ফয়েজী, পীরে তরিকত মাওলানা হারুনুর রশিদ রেজভী, পীরে তরিকত মুহাম্মদ আলী পেশওয়ারা, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম আল-কাদেরী, পীরে তরিকত মাওলানা মহিউদ্দিন লতিফী, মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী, মুফতি আলী আকবর, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নান, মুফতি আলা উদ্দিন জিহাদী, মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, মাওলানা আখতার হোসাইন, মুফতি শফিউল আলম, মুফতি আব্দুল হাকিম নঈমী, পীরে তরিকত মাওলানা মহিউদ্দিন সামীসহ শতাধিক দরবারের গদিনশীন ও ওলামায়ে কেরাম। পরিশেষে মিলাদ-কিয়াম ও সালাত ও সালাম পাঠ শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন-ঢাকা মশুরীখোলা দরবার শরীফের পীর আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান।
