সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিগত ৭ দিনের প্রবল বর্ষণে পৌরসভাসহ ১৭ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে কেলিশহরের রতনপুরে ৪ মাটির বসত ঘর ও ভাটিখাইনে ২ মাটির বসত ঘর বিধ্বস্ত ও শ্রীমতি খালের বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে ভাটিখাইন ও ছনহরার অধিকাংশ এলাকায় পাহাড়ী ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও পৌর সদরের নতুন থানা হাট কোমড় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় নির্দিষ্ট স্থানে এ হাটটি বসতে পারেনি। ফলে হাটের দোকানিরা রেলষ্টেশন এলাকায় তাদের পণ্য বিক্রয়ের জন্য অবস্থান নেন। পাশাপাশি এ পানিতে পটিয়ায় আউশ ধান ও রবি শষ্য এবং কয়েক কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ ভেসে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানান।
গত ৭ দিনের বর্ষণের তোড়ে পটিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও ১৭ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে কেলিশহরের রতনপুরের মোহাম্মদ মামুন, আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ ইছমাইল, মোঃ ইছহাক এবং ভাটিখাইনের রওশন আরা রৌশা ও আবদুল হক এর মাটির তৈরি বসত ঘর ভেঙ্গে বিধ্বস্ত হলে পরিবার গুলো মানবেতর জীবনযাপন করে।
এছাড়াও উপজেলার শ্রীমতি খালের ৫ স্পট যথাক্রমে ধোপাপাড়া এলাকার ৩ স্পট ও চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলমের বাড়ী সংলগ্ন ছনহরা এলাকায় বেঁড়িবাঁধ ও ঠেগরপুনি আকবর শাহ্্ মসজিদের সামনের বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ী ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে। এছাড়াও পৌর সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সহ অনেক বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়ে বলে স্থানীয় জানান।
সরজমিন দেখা যায়, গতকাল দুপুরে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত এলাকা, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পোষ্ট অফিস মোড় এলাকা, পটিয়া আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাদ্রাসা, পৌর সদরের হযরত আমিরুল আউলিয়া দাখিল মাদ্রাসা, শাহ্্ আমির উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খলিলুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ, খাস্তগীর পাড়া, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, পল্লী মঙ্গল, পটিয়া-বোয়ালখালী প্রীতিলতা সড়ক, তালতলাচৌকি টু আমির ভাণ্ডার সড়ক, পটিয়া রেল ষ্টেশন সড়ক, পটিয়া বি.ও.সি. রোড, পটিয়ার ভাটিখাইন আঞ্চলিক সড়ক, ছনহরা আঞ্চলিক সড়ক, বড়লিয়া আঞ্চলিক সড়ক, পটিয়া-মুজাফরাবাদ সড়ক সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সড়ক গুলো পানির নিচে নিমজ্জিত ছিল।
বিশেষ করে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড বিদ্যমান থাকায় এজলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পৌর সদরের বিপ্লব জানান ২নং ওয়ার্ডের পল্লী মঙ্গল, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক এলাকায় হাঁটু পরিমান পানি ফুলে ফেঁপে জনদুর্ভোগ বেড়েছে এতে অনেক পুকুরের মৎস্য সম্পদ ভেসে গেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পোষ্ট অফিস এলাকা দিনভর হাঁটু পানির নিচে ছিল। এতে যানবাহন চলাচলে দুভোর্গের সম্মুখীন হয়।
কেলিশহরের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলম জানান আমার ইউনিয়নে ৪টি বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়ে ৪টি পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমি খবর পেয়ে তাদেরকে ২০ কেজি করে চাউল সহ প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রী আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রদান করেছি এবং তাদের সহায়তার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
পটিয়া থানা হাটের ইজারাদারদের পক্ষে আব্দুল জব্বার ও আবুল মাছুম মাষ্টার বলেন বর্তমানে কোমড় পানি এ হাটে থাকায় আজ প্রথমবারের মত বাজার বসেনি। অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা দিকবিদিক ছুটাছুটি করেছে। আমরা পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিশেষ করে এহাটটি আমরা পৌরসভা থেকে ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে ইজারা নিলেও এর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় আজ এ অবস্থা। তারা থানা হাটের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ এর উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
ভাটিখাইন ইউনিয়নের অধিবাসী এডভোকেট খুরশিদ আলম বলেন ভাটিখাইন বাসীর শ্রীমতি খালের দুঃখ থেকে মুক্তি মিলছে না। ৭ দিন বৃষ্টি হলেই এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিতে ভাসে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার শ্রীমতি খালের ৫টি স্পটে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এতে পুরো ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়েছে। ২টি পরিবারের মাটির ঘর ভেঙ্গে গেছে। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে ও কৃষি সম্পদ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ছনহরা ইউ,পি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতী বলেন আমার ইউনিয়নে শ্রীমতির ২টি স্পট ভেঙ্গে ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে আমার এলাকার অর্ধালক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে এবং অনেক গুলো সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ভাটিখাইন ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ বখতিয়ার বলেন আমার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ৩ স্পট ভেঙ্গে পানি ঢুকে পড়ায় এখন ইউনিয়নের মানুষ নানা শংকায় ভুগছে। পাশাপাশি আরও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে শ্রীমতি ভাঙ্গনে পুরো ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। তিনি শ্রীমতি খালে স্থায়ী বেঁড়িবাঁধ নির্মাণের দাবী জানান।
কেলিশহর ইউ,পি চেয়ারম্যান সরোজ সেন নান্টু বলেন আমার ইউনিয়নের ৪টি মাটির ঘর ভেঙ্গে গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শষ্য ভা-ার খ্যাত কেলিশহরের অনেক রবি শষ্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান বলেন পটিয়ায় ৭ দিনের বর্ষণে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
