সুজিত দত্ত,পটিয়া প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাবেক মহকুমা সদর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সুতিকাগার শিক্ষা–সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে পটিয়া একটি অগ্রসর জনপদ ও রাজনীতিতে রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।আদালত ভবনটি পটিয়া পৌরসদরে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। চৌকি আদালত ভবন বর্তমানে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত নামে পরিচিত । বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত টিনশেড ছাউনি, বাঁশের বেড়ার ছাদ ও ঘেরা বেড়া দিয়ে নির্মিত এই আদালত ভবন বহু বছর ধরেই জরার্জীণ। এ ঝুকিপূর্ণ ভবনটি যে কোন মুহুর্তে ধসে পড়ে গিয়ে দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের যেন নির্বিকার এর সংস্কার কিংবা সমাধানের নেই কোনও উদ্যোগ ।
১৮৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার আদালত ভবনটি নির্মাণ করে । দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত করলেও প্রায় ৩৫ বছরে উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , জরাজীর্ণ ও জংধরা টিনের ছাউনিটি ছিদ্র হয়েছে। ঘেরা বেড়া, কিছু অংশ অর্ধ পাকা দেয়াল এবং বাঁশের বেড়ার ছাদের আস্তর খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি বা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিনষ্ট হচ্ছে । বর্তমানে ৬টি কোর্টের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মামলা রয়েছে ।
৬ জন বিচারকের মধ্যে রয়েছে ৪ জন, ফলে বিচার প্রার্থীরা নানানভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে পটিয়ার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও পটিয়া প্রথম, দ্বিতীয় ও অতিরিক্ত আদালতসহ বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আদালতের দীর্ঘদিন ধরেই বিচারকের এজলাস, চেম্বার, বাসস্থান, বাউন্ডারী দেয়ালসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে।
সম্প্রতি ৬তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে এই বরাদ্দ বাতিল করা হয় । প্রশাসনিক জটিলতা ও বিচারবিভাগের কিছু ত্রুটির কারণে বরাদ্দ বাতিল হয় বলে আইনজীবিরা জানান।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা হাফিজ উদ্দীন ৬ কোটি টাকায় আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও যোগাযোগমন্ত্রী কর্ণেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম ) ঐ বরাদ্দ বাতিল করে নিজ এলাকায় গাছবাড়ীয়া সরকারী কলেজ ভবনের জন্য নিয়ে যায়।
২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিমকে পটিয়া আইনজীবি সমিতি এক সংবর্ধনা সভায় বহুতলা ভবন নির্মানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি । সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও অদৃশ্য কারণে অর্থমন্ত্রণালয়ে ফাইল আটকে পড়ে গিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে আইনজীবি সমিতি নেতৃবৃন্দরা জানান।
আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক কুমার শীল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনুপম নাথ এ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ভবনে দীর্ঘদিন ধরেই অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করছি । যেকোন সময়ে ভবনটি ধসে পড়ে গিয়ে প্রাণহাণির আশংকা রয়েছে। এমনকি ভবনের টিনশেড ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে মামলার নথিপত্র বিনষ্ট হচ্ছে।
বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসস্থান, ভবনের বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় সংশ্লিষ্টরা যথেষ্ট নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। বিচারপ্রার্থীদের বসার ব্যবস্থা ও বিচার কার্যালয় সংকুচিত হওয়ায় সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পুরনো এই আদালত ভবনের সবকিছুই নষ্ট হচ্ছে এমনকি গণশৌচাগার, রাস্তাঘাট, ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহারের অনুপযোগী। তাই বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য আইনজীবি সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
