ডিপ্লোমেটিক জোনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

0

ঢাকা:  ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার (৫০) নিহত হওয়ার পরপরই গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কড়া নজরদারীতে রাখা হয়েছে জোনে প্রবেশের প্রত্যেকটি রাস্তাকে।

জোনে অবস্থানরত বিদেশিসহ অন্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি চেক পোস্ট। এছাড়াও র‌্যাবের ২টি নিয়মিত টহল টিমের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত আরো ৪টি টহল টিম।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত পর্যন্ত সরেজমিনে গেলে এ চিত্র দেখা যায়।

অপর দিকে একই বিষয়ের কথা বিবেচনা করে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গুলশানের সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক করেন। বৈঠকে শুধুমাত্র গুলশানের ডিপ্লোমেটিক জোনে নিরাপত্তার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়।

কড়া নিরাপত্তার কথা জানিয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিক সময়ে ডিপ্লোমেটিক জোনে থাকে ৯টি চেকিং পোস্ট, কিন্তু ইতালিয়ান নাগরিক খুন হওয়ার পর চেক পোস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১১টিতে। এছাড়াও ক্রম‍ান্নয়ে চেকপোস্ট আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও অন্য স্থান থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সাধারণত ডিপ্লোমেটিক জোনে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ২টি মোবাইল টিম কাজ করছে। কিন্তু, এই বিশেষ কারণে বর্তমানে মোট ৮টি মোটরসাইকেল মোবাইল টিম কাজ করছে।

ওসি সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, ডিপ্লোমেটিক জোনে কয়েকটি স্তরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব এবং ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশন।

তিনি আরো জানান, বিমানবন্দরে এপিবিএন’র পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজদারী বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে গোয়েন্দারা কোনো আশঙ্কার তথ্য পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করার জন্য স্ট্যানবাই ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনের ৯০ নম্বর সড়কের মাথায় ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজারকে পরপর ৩টি গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একটি মোটরসাইকেলে করে ৩ জন আরোহী এসে এই কাণ্ড ঘটায়। এই ঘটনার পর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে সিজারের সহকর্মী। পরে মামলাটির তদন্তভার ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) থানা পুলিশ থেকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সিজার গুলশান-২ নম্বরে অবস্থিত নেদারল্যান্ড ভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম আইসিসিও-বিডি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.