আমিনুল হক বাবু,সিটি নিউজ : ঝুঁকি ও আতঙ্কে গার্মেন্টসের রেমিট্যান্স সৈনিকরা যেন মানুষ নয়! টেলিফোন করে তাদের ডেকে আনা হয়েছে, চাকরি বাঁচানোর জন্য তারা অমানুষিক কষ্ট করে যে যেভাবে পারে চাকরিস্থলে হাজির হয়েছে। ডিজিটাল যুগে তারা কর্মস্থলে আসছে পায়ে হেঁটে। আবার কর্মস্থল থেকে ঝুঁকি নিয়ে বাসায় ফিরছে তারা।কি অমানবিক!
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তা মানছেন না অনেক তৈরি পোশাক কারখানার মালিক।গণমাধ্যমের সংবাদে জানতে পারলাম যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সিদ্ধান্ত অমান্য করে গতকাল রবিবার ঢাকায় ৪০০ গার্মেন্টস খুলেছে। চট্টগ্রামেও ১৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন চালু হয়েছে।
গার্মেন্টস খোলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বিজিএমইএ থেকে বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেও তা তোয়াক্কা-ই করেননি অনেক মালিক।চাকরিতে যোগদানের নির্দেশদাতারা এটা ভাবেনি, যে গণপরিবহন বন্ধের এ সময়ে তারা কি ভাবে আসবেন!
একদিকে চলছে অঘোষিত লকডাউন, মানুষ কে বলা হচ্ছে ‘বাসায় থাকুন নিরাপদ থাকুন’, অন্যদিকে লাখ লাখ শ্রমিক যখন কাজ শুরু করবেন, তাদের সাথে সহযোগী আরো অনেক কিছু সচল হয়ে যাবে।
করোনা ভাইরাসসংক্রান্ত জাতীয় সংকটের মধ্যে গার্মেন্টস খোলা রাখা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ এখনো নেই। রবিবার থেকে গার্মেন্টস খোলা হবে মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মুখী ঢল নামে।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে শনিবার মধ্যরাতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মালিকদের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারাখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেও গতকাল তাতে অনেকের সাড়া মেলেনি। অবশ্য এ জন্য কেউ কেউ বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দকে দায়ী করছেন। তারা সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
তাদের এই সিদ্ধান্ত টা কি সাংঘর্ষিক নয়?
ধরে নিলাম সরকার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং বিদেশে এই মুহূর্তে পিপিই, মাস্ক সহ জরুরী পণ্য রপ্তানির সুযোগটা নিতে চায়। সে রকম হলে আমরা মনে করি প্রয়োজনীয় এবং সক্ষম কিছু গার্মেন্টস খোলা রাখা যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের যাতায়াত সহ সার্বিক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তবে সব চাইতে ভালো হতো যদি ১৪ তারিখের পরে এগুলো সচল করা হতো। কারণ বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ১০ দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ থাকতে হলে আপাতত জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখাই হবে আমাদের জন্য নিরাপদ।
একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে লাখ লাখ এসব গার্মেন্টস যোদ্ধাদের মধ্যে শুধুমাত্র একজনেরও যদি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঘটে তবে ব্যাপারটা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। মনে রাখতে হবে, মানুষ বাঁচলে বাঁচবে দেশ।
লেখক : সিনিয়র ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।
